সান ফ্রান্সিসকো, ৭ আগস্ট:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির আধুনিক বিকাশের সঙ্গে ধর্মীয় জ্ঞান চর্চার এক অনন্য ও যুগান্তকারী সংযোগ ঘটাল নতুন উদ্ভাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কাফ’ (Qaf)। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা আবদেল লতিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সর্বাধুনিক এআই টুলের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, যা ইসলামিক বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ও তথ্যসূত্রভিত্তিক উত্তর দিতে সক্ষম। প্রায় ৮,০০০-এরও বেশি প্রামাণ্য ইসলামিক বই, প্রাথমিক ধর্মীয় উৎস এবং তাফসির ও হাদিস গ্রন্থের বিশাল তথ্যভান্ডার অনুসন্ধান করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ব্যবহারকারীদের যেকোনো প্রশ্নের সঠিক সমাধান এনে দিচ্ছে এই অ্যাপ্লিকেশনটি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আইওএস (iOS), অ্যান্ড্রয়েড (Android) অ্যাপ প্ল্যাটফর্ম এবং নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট (qaf.ai)-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের জন্য এই পরিষেবা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
অ্যাপটির কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক সুবিধা বোঝাতে উদ্ভাবকদের পক্ষ থেকে একটি ডেমো ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে জটিল ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের চমৎকার দক্ষতা দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, সুরা আল-বাকারা নির্দেশিত মধ্যবর্তী সালাত সংক্রান্ত বিধান বা সফরের সময় দুটি সালাত একসঙ্গে আদায়ের নিয়ম সম্পর্কিত জটিল প্রশ্নের উত্তর অ্যাপটি চোখের পলকে তৈরি করে দিচ্ছে। স্ক্রিনে সংক্ষেপিত উত্তরের পাশাপাশি সেই বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থপঞ্জি, মূল বইয়ের রেফারেন্স এবং সরাসরি ক্লিকযোগ্য কোরআনের আয়াত ও হাদিসের লিংক প্রদর্শিত হচ্ছে। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এক ক্লিকেই প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিশদ ও নির্ভুল বিবরণ নিজেরা দেখে যাচাই করে নিতে পারেন।
এই উদ্ভাবনী উদ্যোগটির মূল উদ্ভাবক আবদেল লতিফ পূর্বে বিখ্যাত কোরআন শিক্ষা অ্যাপ ‘তারতিল’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্স বা সাবেক টুইটারে প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এআই মডেল বা শুধুমাত্র মৌলিক আরএজি (RAG) প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে তিনি এই অ্যাপে ‘এজেন্টিক সার্চ’ প্রযুক্তি প্রয়োগ করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো এআই-এর নিজস্ব মনগড়া বা কাল্পনিক তথ্য এড়িয়ে উত্তরগুলোকে সরাসরি মৌলিক প্রামাণ্য ইসলামিক গ্রন্থের সঙ্গে শতভাগ সংলগ্ন ও প্রাসঙ্গিক রাখা।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত যেকোনো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ভুলের সম্ভাবনা থেকেই যায়, যা স্বীকার করে নিয়েছে প্রযুক্তিটির নির্মাতা দল। তারা স্পষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন যে বিশ্বের কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই শতভাগ নিখুঁত নয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনি বা ধর্মীয় ফতোয়ার ক্ষেত্রে এই অ্যাপ থেকে প্রাপ্ত উত্তরগুলোকে চূড়ান্ত মেনে নেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ আলেম বা ইসলামিক পণ্ডিতদের সঙ্গে কথা বলে তথ্যগুলো যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধর্মভিত্তিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি এই টুলটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিমহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

