নতুন দিল্লি, ৬ আগস্ট:২০২৬ সালের ৬ আগস্ট লোকসভায় পাস হওয়া এই সংশোধনী বিলটি ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর পুনর্বহাল করার পথ উন্মুক্ত করল। তবে বিল পাস হলেও অবিলম্বে বা সঙ্গে সঙ্গে কোনো ধরনের ফি চাপানো হচ্ছে না। সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে যে, নতুন বিধান থাকলেও বেশিরভাগ ইউপিআই এবং সমস্ত ধরনের ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি বা পিটুপি লেনদেন বিনামূল্যে রাখা হতে পারে। মূলত কেবল বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বা উচ্চমূল্যের কেনাকাটায় এই ধরনের মাশুল প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্ব এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র সরব হয়েছে। জয়রাম রামেশ যুক্তি দিয়েছেন যে, ইউপিআই এবং রূপেই ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বজায় রাখতে আলাদা করে ব্যবহারকারীদের ওপর মাশুল আরোপের কোনো প্রয়োজন ছিল না। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা আরবিআই-এর কাছে যে বিশাল উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে, তা থেকেই এই পেমেন্ট পরিকাঠামোর পরিচালনা খরচ অনায়াসে বহন করা যেত। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবহার করার বদলে সরকার কেন সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপানোর রাস্তা খুলে রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর পেছনে আন্তর্জাতিক চাপের দিকটিও তুলে ধরেছেন কংগ্রেসের এই নীতি নির্ধারক। রামেশের দাবি, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইউপিআই ও রূপেই পরিষেবা চালু থাকায় ভিসা এবং মাস্টারকার্ডের মতো মার্কিন বহুজাতিক অর্থ লেনদেন সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিল। এর ফলে আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতের এই বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার নীতির সমালোচনা করা হচ্ছিল। রামেশের অভিযোগ, মার্কিন পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবসার সুবিধার্থে এবং আমেরিকার মন পেতেই ভারত সরকার এই আইনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে।
আমেরিকার আন্তর্জাতিক চাপের কথা বলতে গিয়ে জয়রাম রামেশ বিষয়টিকে আরও গভীরে নিয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইউপিআই সংক্রান্ত এই পদক্ষেপে ভারতের অর্থনৈতিক নীতিতে মার্কিন প্রভাবের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। এর আগে বাণিজ্য এবং শক্তি খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে আমেরিকার চাপের কাছে নতিস্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। লোকসভায় পাস হওয়া এই নতুন বিল দেশের সার্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যাবস্থায় দূরগামী পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

