২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা, রাজ্যসভায় তথ্য দিল কেন্দ্র

২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা, রাজ্যসভায় তথ্য দিল কেন্দ্র

নতুন দিল্লি, ৬ আগস্ট:

চলতি ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিভিন্ন বিদেশ সফরে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪.৫৯ কোটি টাকা। রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং সিপিআই সাংসদ ভি শিবদাসের তোলা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন। পেশ করা পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়সীমায় প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ইতালি, ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, সেশেলস, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফর করেছেন। মোট ছয়টি আনুষ্ঠানিক সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই ১৩টি দেশ পরিদর্শন করেন।

বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে যে সফরগুলো সম্পন্ন হয়েছে তার মধ্যে মে মাসে অনুষ্ঠিত নরওয়ে সফরে সবথেকে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। নরওয়ে সফরের জন্য সরকারি খাত থেকে খরচ হয়েছে মোট ১৭.৪৬ কোটি টাকা। এরপরেই ব্যয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে পরিচালিত ইসরায়েল সফর, যেখানে খরচ হয়েছে ১১.৯২ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য সফরগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া সফরে খরচ হয়েছে ৫.৫৭ কোটি টাকা এবং সেশেলস সফরে খরচ হয়েছে ৮.২২ কোটি টাকা। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে যে, কয়েকটি সফরের চূড়ান্ত বিল এখনও মেটানো বাকি থাকায় ২০২৬ সালের বেশ কিছু খরচের পরিসংখ্যান আপাতত সাময়িক হিসেবে ধরা হয়েছে। চূড়ান্ত হিসেব পাওয়ার পর মূল অঙ্কে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।

সংসদে পেশ করা তথ্যে আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫৭.৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে করোনা মহামারীর প্রভাবে ২০২১ সালে খরচের পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম, প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।এর পর ২০২২ সালে খরচ হয় ৫৫ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৯৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ১০৯ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে বিভিন্ন দেশ সফরে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।এই সফরগুলো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে পরিচালিত হয়েছিল বলে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরগুলো কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বরং এগুলো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।প্রযুক্তি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শক্তি ক্ষেত্র এবং সাপ্লাই চেইন জোরদার করার ক্ষেত্রে এই সফরগুলো থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২১ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর চলাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে মোট ৩১৬টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার ফলে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভারতে মোট ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই এসেছে।

এর সাথে অতীতের ইউপিএ সরকারের আমলের কিছু বিদেশ সফরের ব্যয়ের তথ্যও তুলনামূলক রেফারেন্স হিসেবে সংসদের সামনে তুলে ধরেছে বিদেশ মন্ত্রক।যেখানে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে ১০.৭৪ কোটি টাকা এবং ২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে ৯.৯৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ বিমান, সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল, নিরাপত্তা দল এবং আন্তর্জাতিক প্রোটোকল সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সমস্ত চূড়ান্ত নথি সংগৃহীত হওয়ার পর ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply