বেঙ্গালুরু, ১১ অগাস্ট:
কর্নাটকে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা পরিষ্করণ বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে বিশিষ্ট অভিনেতা তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশ রাজের নাম বাদ পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তথাকথিত এএসডিডিও অর্থাৎ অ্যাবসেন্ট, শিফটেড, ডেড, ডুপ্লিকেট এবং আদার্স তালিকায় অভিনেতার নাম স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত বা পার্মানেন্টলি শিফটেড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিখ্যাত তথ্য-যাচাইকারী বা ফ্যাক্ট-চেকার মহম্মদ জুবায়ের নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ক্রিনশট এবং ভিডিও প্রকাশ করে এই পুরো ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। জুবায়েরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভোটার তালিকায় অভিনেতা প্রকাশ রাজের নাম এইভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার সহজ অর্থ হলো ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
তথ্য-যাচাইকারী মহম্মদ জুবায়ের এই নথি শেয়ার করার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকাশ রাজ বেঙ্গালুরুতেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই শহরেরই স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন। এমনকি পূর্ববর্তী লোকসভা নির্বাচনে তিনি বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ফলে একজন ভূমিসন্তান এবং প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের নাম কীভাবে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হিসেবে তালিকায় নথিভুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই নিজে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। ভিডিওতে তিনি নিজের নাম বাদ পড়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাঁর পাশাপাশি যেভাবে লাখ লাখ সাধারণ নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, কর্নাটক রাজ্যজুড়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ ভোটার তালিকা পরিষ্করণ প্রক্রিয়ার অধীনে এএসডিডিও তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সমগ্র রাজ্য জুড়ে প্রায় এক কোটি দশ লাখেরও বেশি ভোটারকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত কিংবা ভুয়ো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা রাজ্যের মোট নথিভুক্ত ভোটারের প্রায় ২০ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গিয়েছে বেঙ্গালুরু শহরের বিভিন্ন জেলায়, যেখানে পরিষ্করণের নামে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটারের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনের পর সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। কমিশন জানিয়েছে, আগামী অগাস্ট মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকরা এই তালিকায় সংশোধনের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
ভোটার তালিকা পরিষ্করণের নামে স্থায়ী বাসিন্দাদের নাম যেভাবে যথেচ্ছভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরাও। অভিনেতা প্রকাশ রাজের নাম বাদ পড়ার এই নির্দিষ্ট উদাহরণটি নির্বাচন কমিশনের সার্বিক কাজকর্ম এবং তাদের ব্যবহৃত ব্যবস্থার বিশাল ত্রুটিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল। লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণের এই আশঙ্কা নিয়ে কর্নাটকের রাজনৈতিক ও সামাজিক অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

