কলকাতা, ১২ আগস্ট:
গত সপ্তাহে মাঝ আকাশে এক ভয়ংকর এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান। থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ওই বিমানটি উড্ডয়নের পর হঠাৎ করেই মাঝ আকাশে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এই আকস্মিক ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বিমানটির ভেতরে এক চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এবার সেই চাঞ্চল্যকর এবং উদ্বেগজনক ঘটনায় সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য, যা দেশের সমগ্র অসামরিক বিমান পরিবহন ক্ষেত্রে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ওই নির্দিষ্ট বিমানের দায়িত্বে থাকা প্রধান চালক বা ক্যাপ্টেন মাদক সেবন করেছিলেন। তাঁর কনফার্মেটরি ড্রাগ টেস্ট বা নিশ্চিতকরণ মাদক পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ওই পাইলটের শরীরে গাঁজা বা মারিজুয়ানার উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ১১ অগস্ট এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশের সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু-র পক্ষ থেকে তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল বা টুইটার অ্যাকাউন্টে এই খবরটি নিশ্চিত করে প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটটি যখন মাঝ আকাশে নির্দিষ্ট উচ্চতায় উড়ছিল, তখন অপ্রত্যাশিতভাবে এবং সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে বিমানটির উচ্চতা হ্রাস পেতে শুরু করে। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে ধোঁয়াশা থাকলেও এখন সম্পূর্ণ বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কোনো সুস্পষ্ট বাহ্যিক কারণ ছাড়াই বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল। অসামরিক বিমান চলাচলের কঠোর নিয়মকানুন অনুযায়ী, মাঝ আকাশে এমন আকস্মিক উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনা যেকোনো যাত্রীবাহী বিমানের ক্ষেত্রেই একটি বড়সড় দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ঘটনার পরই নিয়ম মাফিক ওই বিমানের ক্যাপ্টেনের শারীরিক পরীক্ষা বা ড্রাগ টেস্ট করা হয়। সেই কনফার্মেটরি ড্রাগ টেস্ট বা দ্বিতীয় দফার নিশ্চিতকরণ পরীক্ষাতেই তাঁর শরীরে নিষিদ্ধ মাদক অর্থাৎ গাঁজা বা মারিজুয়ানার উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
ভারতীয় টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলগুলির সূত্র উদ্ধৃত করে দ্য হিন্দু জানিয়েছে যে, এই ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। অসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একজন পাইলট বা ক্যাপ্টেনের সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং একাগ্রতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। সেখানে একজন পাইলট যদি গাঁজার মতো মাদক গ্রহণ করে একটি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার দায়িত্ব নেন, তবে তা বিমানে উপস্থিত সমস্ত যাত্রীদের জীবনের জন্য এক ভয়াবহ ঝুঁকির সমান। ফুকেট থেকে দিল্লিগামী ওই বিমানে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন বা হঠাৎ ৩০০ ফুট উচ্চতা কমার ফলে যাত্রীদের কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে দ্য হিন্দু-র এই প্রাথমিক রিপোর্টে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে শুধুমাত্র মাদকাসক্ত অবস্থায় বিমান চালানোর এই তথ্যই প্রমাণ করে যে সেই মুহূর্তে মাঝ আকাশে একটি বড়সড় এবং প্রাণঘাতী বিপত্তি ঘটতে পারত।
গত মঙ্গলবার, ১১ অগস্ট ভারতের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলে এই খবরটি প্রথম সম্প্রচারিত হয়। এরপর দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদনেও এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সামনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কনফার্মেটরি ড্রাগ টেস্টের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি পজিটিভ আসার অর্থ হলো, অভিযুক্ত ক্যাপ্টেন আসলেই ওই নিষিদ্ধ পদার্থ গ্রহণ করে ফ্লাইটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তিকেই কালিমালিপ্ত করে না, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের বিমান চলাচল ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়। এই মুহূর্তে ওই অভিযুক্ত ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সামগ্রিক তদন্ত কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে পরবর্তী রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
