মশা মারতে কামান দাগছেন কেন? তুকারাম মুন্ডের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র এফডিএ-কে তীব্র ভর্ৎসনা বম্বে হাইকোর্টের

মশা মারতে কামান দাগছেন কেন? তুকারাম মুন্ডের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র এফডিএ-কে তীব্র ভর্ৎসনা বম্বে হাইকোর্টের

মুম্বই, ১৩ আগস্ট:

আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে সরাসরি চরম পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এবং এর কমিশনার তুকারাম মুন্ডেকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল বম্বে হাইকোর্ট। অ্যামাজন রিটেইল ইন্ডিয়া এবং ক্যাডিলা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে উপযুক্ত নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই লাইসেন্স বাতিল এবং ওষুধ বাজেয়াপ্ত করার মতো কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল এফডিএ। এই সরকারি পদক্ষেপের পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত মন্তব্য করেছে যে, মশা মারার জন্য তরবারির ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অন্যায্য এবং অযৌক্তিক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম আনখাদের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে প্রথমেই গুলি চালানো এবং পরে প্রশ্ন করার যে নীতি ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’-এ চলত, তা বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় চলতে পারে না।

আদালতে ক্যাডিলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ ছিল, ওষুধের ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত একটি বিভ্রান্তির জেরে এফডিএ পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কোম্পানিটির কিছু ওষুধের বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ করে দেয় এবং রাজ্যে তাদের প্রায় ২.৪৫ কোটি টাকার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে। বিশেষ করে অ্যাসিলক ১৫০ এবং অ্যাসিলক ৩০০-এর মতো প্রয়োজনীয় ওষুধের ক্ষেত্রেও কোম্পানিকে কোনো শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া, অ্যামাজন রিটেইল ইন্ডিয়ার ফুড লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। শিল্প মহলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ বা নোটিশ না দিয়েই এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ডে সরাসরি লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। বম্বে হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, ছোটখাটো ত্রুটির জন্য কি মহারাষ্ট্রের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে এফডিএ? আদালত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণেরও সমালোচনা করে এবং বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সরকারি মন্ত্রালয়ের ক্যান্টিনের মতো জায়গার দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী নেহা ভিড়ে দাবি করেন যে, ওষুধ নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতেই এই পদক্ষেপ একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছিল, এটি কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার নয়। তবে আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বেঞ্চ মন্তব্য করে যে, কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বাজারে প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হতে পারেন, তা নিয়ে আদালত বেশি উদ্বিগ্ন। বম্বে হাইকোর্ট খাদ্য ও পানীয়ের মান রক্ষায় এফডিএ-র কড়া নজরদারির প্রশংসাও করেছে, কিন্তু পাশাপাশি মনে করিয়ে দিয়েছে যে নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আদালতের এই কড়া নির্দেশ ও সতর্কবার্তার পর এফডিএ ক্যাডিলার বিরুদ্ধে দেওয়া ওষুধ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা আদালতকে আশ্বস্ত করেছে যে, এরপর থেকে যথাযথ পদ্ধতি মেনে প্রথমে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হবে এবং কোম্পানির লিখিত জবাব শোনার পরেই চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হবে। ভবিষ্যতেও যদি এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply