হাওড়া, ৫ আগস্ট:রাজ্যে জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং সন্দেহভাজন গতিবিধির বিরুদ্ধে অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতারের পর এবার তাদের সহযোগীকেও জালে তুলল গোয়েন্দারা। হাওড়ার ঘিঞ্জি এলাকা বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আদিত্য সিং ওরফে রাজ নামে বাইশ বছর বয়সী এক যুবককে। ধৃত হামিম ও অর্পিতাকে দফায় দফায় জেরা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই রবিবার রাতে হাওড়ায় অভিযান চালায় এসটিএফের একটি বিশেষ টিম। প্রথমে আদিত্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ঘটনার সত্যতা মিলতেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে খবর, একটি আন্তর্জাতিক গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল আদিত্য সিংয়ের। অনলাইনের ওই প্ল্যাটফর্মেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। অভিযোগ, যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে আদিত্যকে চরমপন্থী চিন্তাভাবনায় প্রভাবিত করে হামিম এবং তাকে নিজের গোপন স্পাই নেটওয়ার্কের কাজে যুক্ত করে ফেলে। দুই মাস আগে হাওড়ার গোলাঘাট এলাকায় হামিম ও আদিত্য সরাসরি দেখাও করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই আদিত্যকে বিশেষ কিছু নির্দেশ ও দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের উপর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আদিত্যকে। প্রতিমন্ত্রীর গতিবিধি, কোথায় তিনি যাচ্ছেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ করে হামিমের কাছে পাঠাত আদিত্য। মন্ত্রী ও তাঁর ছেলেকে পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের ছবি তোলার কাজও সে সম্পন্ন করত বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। এই সমস্ত সংগৃহীত তথ্য দিয়ে মন্ত্রী বা তাঁর পরিবারকে হানিট্র্যাপে ফাঁসানো এবং পরবর্তীতে অপহরণের একটি বিশাল ছক কষা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি ওই পরিবার থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আদায় করার পরিকল্পনা ছিল বলেও ইঙ্গিত পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র বাংলাতেই নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতেও এই ধরনের হানিট্র্যাপের জন্য একটি সুসংগঠিত মহিলা গ্যাং গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল হামিম ও তার দলবল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মূলত তরুণী ও মডেলদের টার্গেট করে তাঁদের ফাঁদে ফেলার ছক ছিল তাদের। সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া নির্দেশের ওপর ভর করেই এই ষড়যন্ত্র পরিচালনা করা হচ্ছিল। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকেও একইভাবে ব্যবহার করে মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে দীর্ঘ চার মাস ধরে যোগাযোগ রাখানো হচ্ছিল বলে খবর মিলেছে।
হাওড়ার মতো জনবহুল শহরের বেলিলিয়াস রোডে এসটিএফের এই আচমকা অভিযানে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে তদন্তে যোগ দিয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং বিশেষ গোয়েন্দা শাখা। ইতিমধ্যেই আদিত্যর বাড়ি থেকে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ফোন এবং অ্যাপ্লিকেশনের চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে এই চক্রে আর কতজন যুক্ত রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজ্যে কোনো বড় ধরনের নাশকতার নীল নকশা ছিল কিনা, তাও গভীর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন https://www.facebook.com/BanglakalMedia
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

