বেঙ্গালুরু, ২৩ আগস্ট:
বেঙ্গালুরুতে বসবাসকারী বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর পুলিশের সাম্প্রতিক ধরপাকড়, হয়রানি এবং নির্বিচার তল্লাশি অভিযানকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিল এক যৌথ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন ও অধিকার কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাষ্ট্র কোনোভাবেই জাতিগত বা ভাষাগত কুসংস্কারকে অভিবাসন আইনের মতো প্রয়োগ করতে পারে না।
অধিকার কর্মীদের তথ্য অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, উপযুক্ত কোনো আইনি পরোয়ানা বা পূর্ব নোটিস ছাড়াই বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন শ্রমজীবী বস্তি এলাকায় মধ্যরাতে বা ভোররাতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকে আসা বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের শুধুমাত্র ভাষার ভিত্তিতে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের জোরপূর্বক আটক করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত বৈধ পরিচয়পত্র যেমন আধার কার্ড, ভোটার আইডি বা প্যান কার্ড থাকা সত্ত্বেও বহু শ্রমিকের নথি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে এবং সেগুলি ভুয়ো দাবি করে তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি বেশ কিছু ক্ষেত্রে নারীদের ওপর পুলিশি দুর্ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের হেনস্থার ঘটনাও সামনে এসেছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো রাজ্যে গিয়ে বসবাস ও কাজ করার মৌলিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু কর্ণাটক পুলিশের এই পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপ সেই সাংবিধানিক সুরক্ষাকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে। শুধুমাত্র ভাষার ভিত্তিতে কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে গণ্য করা বেআইনি এবং এটি সামাজিক স্তরে বিদ্বেষমূলক মনোভাবকে উসকে দিচ্ছে।
তদন্তকারী দলটি রাজ্য সরকারের কাছে অবিলম্বে এই ধরনের অসাংবিধানিক ধরপাকড় বন্ধের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক সমস্ত নির্দোষ পরিযায়ী শ্রমিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার এবং হয়রানির সঙ্গে যুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

