নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট:
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনের পানীয় জলে বিপজ্জনক ই-কোলাই (E. coli) এবং কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির প্রমাণ মিলল ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (ক্যাগ) সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্টে। যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত এই নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রেলের একাধিক জোনে নিয়মিত জল পরীক্ষা ও গুণমান নিয়ন্ত্রণের নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়নি। এর ফলে লাখ লাখ যাত্রীর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ অডিট সংস্থা।
ক্যাগের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ৪৯টি নির্বাচিত রেল স্টেশনের ওয়াটার কুলার থেকে সংগৃহীত জলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার মধ্যে আটটি স্টেশনের ওয়াটার কুলারের জলে বিপজ্জনক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। এই ব্যাকটেরিয়া মানবদেহে মারাত্মক পেটের সংক্রমণ, ডায়রিয়া এবং জটিল ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে। এছাড়া প্ল্যাটফর্মের সাধারণ ট্যাপের জলে দূষণের চিত্র আরও ভয়াবহ। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে আটটি রেল জোনের ৪৯টি স্টেশনে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নয়টি জোনের ৫৬টি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ট্যাপের জলে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
রিপোর্টে বিশেষভাবে চিহ্নিত স্টেশনগুলির তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর, কেরলের পালঘাট জংশন, তেলঙ্গানার হায়দরাবাদ, মহারাষ্ট্রের মুম্বই ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (সিএসএমটি), ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ, লোনাভালা এবং পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন পূর্ব রেলের মধুপুর স্টেশন। এই সমস্ত ব্যস্ত রেল টার্মিনালে প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী চলাচল করেন এবং পানীয় জলের ওপর নির্ভর করেন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে রেলওয়ে বোর্ডের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও জল পরিশোধনের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। জলে অবশিষ্ট ক্লোরিনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখার পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ব্যাকটিরিওলজিক্যাল বিশ্লেষণ এবং বছরে অন্তত দুবার রাসায়নিক পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের গাফিলতি ধরা পড়েছে। ছটি রেল জোনের ৫৯টি স্টেশনে ব্যাকটিরিওলজিক্যাল পরীক্ষাই করানো হয়নি বলে ক্যাগ জানিয়েছে।
রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জল পরিশোধন এবং গুণমান সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ক্যাগ কড়া ভাষায় জানিয়েছে যে কেবল আশ্বাসে কাজ হবে না। যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে এবং পানীয় জলের ব্যর্থতা ঠেকাতে নির্ধারিত ইউনিফর্ম ড্রিঙ্কিং ওয়াটার কোয়ালিটি প্রোটোকল কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

