হিমাচলের নালাগড় থানা চত্বরে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় সন্ত্রাসী অভিযোগে মহাবীর কুমার,অজয় মেহরা এবং মনপ্রীত সিং কে গ্রেফতার করল এনআইএ

হিমাচলের নালাগড় থানা চত্বরে  বোমা বিস্ফোরণ মামলায় সন্ত্রাসী অভিযোগে মহাবীর কুমার,অজয় মেহরা এবং মনপ্রীত সিং  কে গ্রেফতার করল এনআইএ

নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট:

হিমাচল প্রদেশের নালাগড় থানা চত্বরে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সংঘটিত ভয়াবহ আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ কাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই নাশকতামূলক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতদের নাম মহাবীর কুমার ওরফে কাকা, অজয় মেহরা এবং মনপ্রীত সিং ওরফে মণি। এই মামলায় এনআইএ-র হাতে এটিই প্রথম গ্রেফতারির ঘটনা।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ হিমাচল প্রদেশের নালাগড় থানা ভবনের ভেতর তদন্তকারী আধিকারিকের কক্ষ সংলগ্ন সীমানা প্রাচীরের পাশে একটি শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের ভবনগুলোর কাচ ভেঙে যায় এবং বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে নালাগড় থানায় নির্দিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় পুলিশ।

পরবর্তীকালে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব ও ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ। গত ৮ মে ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের দিল্লি শাখায় নতুন করে মামলা রুজু করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), বিস্ফোরক পদার্থ আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) সংশ্লিষ্ট একাধিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে জোরকদমে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্ত চলাকালীন এনআইএ আধিকারিকরা অপরাধের নেপথ্যে মহাবীর কুমার ওরফে কাকা, অজয় মেহরা এবং মনপ্রীত সিং ওরফে মণির সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অকাট্য তথ্যপ্রমাণ পান। এরপরই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হেফাজতে নেয় সংস্থাটি। গ্রেফতারির পর অভিযুক্তদের হিমাচল প্রদেশের শিমলায় অবস্থিত বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে মহাবীর কুমার এবং অজয় মেহরাকে আট দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর অভিযুক্ত মনপ্রীত সিংকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে এই হামলাটি একটি সুপরিকল্পিত নাশকতামূলক চক্রান্তের অংশ ছিল। ঘটনার পরপরই তদন্তে বিভিন্ন সূত্র এবং নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার দিকগুলো খতিয়ে দেখা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে থাকা বৃহত্তর চক্রান্তের পর্দাফাঁস করতেই এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই হামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং নাশকতার বৃহত্তর নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি ভেঙে দিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply