ভারী বর্ষণে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে ধসে পড়ল শতবর্ষী বাড়ি, এসি ঘরে ঘুমন্ত একই পরিবারের ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারী বর্ষণে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে ধসে পড়ল শতবর্ষী বাড়ি, এসি ঘরে ঘুমন্ত একই পরিবারের ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রতাপগড়, ৭ আগস্ট:

উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলায় অবিরাম ভারী বর্ষণের জেরে ঘটা একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা টানা বৃষ্টির চাপে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি দোতলা বাড়ি হঠাৎ ধসে পড়ায় এই বিপত্তি ঘটে। গরম থেকে বাঁচতে এবং আরামদায়ক পরিবেশ পাওয়ার আশায় পরিবারের ওই সদস্যেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষে একসঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতের অন্ধকারে যখন বাড়িটির ওপরের অংশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে, তখন ঘরের ভেতর থাকা মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনাস্থল থেকে আসা স্থিরচিত্রে দেখা গেছে ধ্বংসপ্রাপ্ত কক্ষটির একপাশের হলুদ দেয়ালে এসি যন্ত্রটি ঝুলছে, আর পুরো ঘর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইট, কাদা এবং ছাদের ভারী ভগ্নাবশেষ। প্রতাপগড় জেলা পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ওই কক্ষ থেকে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া একজনকে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত কারণ খতিয়ে দেখতে এবং জরাজীর্ণ ভবনটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। পুরোনো পরিকাঠামোর বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে পানির চাপে দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্গত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতি বছর বর্ষার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে একই পরিবারের এতজন মানুষের একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনা উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তকরণ এবং নাগরিকদের সচেতন করার বিষয়ে নতুন করে জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের নিকটজনদের হাতে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো টেকনিক্যালি ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও জেলা প্রশাসনের একটি দল বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করছে। বর্ষার মরসুমে জরাজীর্ণ ও অতি প্রাচীন অবকাঠামোতে থাকার সময় বাড়তি সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply