রাঁচি, ১০ অগাস্ট:
ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের বিধানসভা ঘেরাও অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মোর্চার ব্যানারে সংগঠিত আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে পদযাত্রা শুরু করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার বিবরণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক শচীন গুপ্ত।
রাজ্যের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিশেষ করে জেএসএসসি-সিজিএল সহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ১৭ দিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি হলো, অনিয়ম হওয়া পরীক্ষাগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং পুরো দুর্নীতি তদন্তের জন্য সিবিআই অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে হবে। এই দাবিতে সোচ্চার হয়ে হাজার হাজার ছাত্র সোমবার বিধানসভা ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রশাসনিক ভবনের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেন।
আন্দোলনকারীদের থামাতে রাঁচির জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে ১,৫০০ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ছাত্ররা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ জলকামান চালায় এবং একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিনের দিনেই। একদিকে যখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিন পালিত হচ্ছে, অন্যদিকে ঠিক তখনই রাজপথে নেমে শত শত ছাত্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম শীর্ষ নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো গত ৯ দিন ধরে লাগাতার অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি দাবি আদায়ে অনড় রয়েছেন।
অন্যদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরি বা ইডি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আলাদা তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করেছে। ইডি-র এই পদক্ষেপে রাজ্য সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ল। পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে আসতে নারাজ। পরীক্ষা বাতিল ও সিবিআই তদন্তের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে বলে আন্দোলনকারী সংগঠন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

