নিট দুর্নীতিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে অর্থ এল কোথা থেকে? টিভি বিতর্কে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের নাম নিয়ে ভাইরাল সিজেপি মুখপাত্র

নিট দুর্নীতিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে অর্থ এল কোথা থেকে? টিভি বিতর্কে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের নাম নিয়ে ভাইরাল সিজেপি মুখপাত্র

নয়াদিল্লি, ১০ অগাস্ট:

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে জুলাই ও অগাস্ট মাস জুড়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র বিক্ষোভের অর্থায়ন নিয়ে এবার জাতীয় টেলিভিশনের পর্দায় তুমুল বিতর্ক তৈরি হলো। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ নিউজ ২৪ চ্যানেলের একটি বিতর্ক সভার ভিডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং প্রবীণ সাংবাদিক তথা সঞ্চালক মানক গুপ্তের মধ্যে একটি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়। সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে সিজেপি মুখপাত্র অত্যন্ত শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে যে উত্তর দিয়েছেন, তা ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

টেলিভিশনের ওই প্রাইম টাইম বিতর্ক সভায় সঞ্চালক মানক গুপ্ত সিজেপি মুখপাত্রের কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন যে, যন্তর মন্তরে এত বড় মাপের যে ছাত্র বিক্ষোভ সংগঠিত হচ্ছে, তার জন্য বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসছে। এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে আশুতোষ রাঙ্কা অত্যন্ত কটাক্ষের সুরে জানান যে, এই ছাত্র বিক্ষোভের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা হয়েছে সরাসরি পিএম কেয়ার্স ফান্ড থেকে। এখানেই থেমে না থেকে তিনি অবিলম্বে সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পিএম কেয়ার্স ফান্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট বা আইনি হিসাব পরীক্ষারও জোরদার দাবি তোলেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিতর্ক সভার পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে আরও সরগরম হয়ে ওঠে এবং সেই নির্দিষ্ট ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, গত জুলাই এবং চলতি অগাস্ট মাস জুড়ে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী এক বিশাল বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। মূলত সদ্য সমাপ্ত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা পরিচালনায় দেশজুড়ে যে অভাবনীয় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তারই প্রতিবাদে এই লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রী এবং সিজেপি-র পক্ষ থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের দাবি তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এই চরম অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করে দেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগেরও জোরালো দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সেই দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল আকার ধারণ করা ছাত্র আন্দোলনের পেছনে কারা আর্থিক মদত দিচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে লাগাতার প্রশ্ন উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই টিভি চ্যানেলের ওই বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অত্যন্ত সুকৌশলে বিক্ষোভের অর্থায়ন সংক্রান্ত মূল প্রশ্নটিকে এড়িয়ে গিয়েছেন। উলটে তিনি পিএম কেয়ার্স ফান্ডের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত বিষয়কে টেনে এনে খোদ সরকারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। সরকার পরিচালিত এই ফান্ডের আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব নিয়ে বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের সমালোচনা করে আসছে। এবার সেই একই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সিজেপি মুখপাত্র যেভাবে লাইভ টিভি বিতর্কে সঞ্চালককে নিরুত্তর করার চেষ্টা করেছেন, তা নেটিজেনদের একাংশের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন এবং ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এক্স প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা ওই ভিডিওটির নিচে হাজার হাজার মন্তব্য এবং রিটুইট লক্ষ্য করা গিয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই সিজেপি মুখপাত্রের এই উপস্থিত বুদ্ধি এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সরকার যখন সাধারণ ছাত্রদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এর পেছনে বহিরাগত অর্থায়নের তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছে, তখন পিএম কেয়ার্স ফান্ডের অডিটের দাবি তুলে সেই প্রচেষ্টাকে সার্থকভাবেই প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিতর্কে এভাবে মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে পাল্টা অভিযোগ তোলা কোনো গঠনমূলক রাজনৈতিক চর্চা হতে পারে না। তবে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত থাকলেও, এই একটি বিতর্কিত মন্তব্য যে নিট কেলেঙ্কারি এবং যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনকে ফের একবার জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে নিয়ে এসেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply