আইআইটি পরিচালকের বিরুদ্ধে মন্তব্য: প্রিয়ঙ্কাকে খোলা চিঠি ২১৫ জন শিক্ষাবিদের, ক্ষোভ প্রকাশ আইআইএম-আইআইটি প্রধানদের

আইআইটি পরিচালকের বিরুদ্ধে মন্তব্য: প্রিয়ঙ্কাকে খোলা চিঠি ২১৫ জন শিক্ষাবিদের, ক্ষোভ প্রকাশ আইআইএম-আইআইটি প্রধানদের

নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই: লোকসভায় পরীক্ষা সংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর ভি কামকোটিকে নিশানা করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভদ্রের করা মন্তব্যকে ঘিরে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২১৫ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে একটি যৌথ খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইআইটি (IIT) এবং আইআইএম (IIM)-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা।

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কাজের পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করেছিল, যেখানে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয় আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর ভি কামকোটিকে। NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর লোকসভায় পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী তাঁকে ‘গৌমূত্র বিশেষজ্ঞ’ (gaumutra expert) বলে কটাক্ষ করেন বলে অভিযোগ। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে দেশীয় জ্ঞান ব্যবস্থা (indigenous knowledge) বিষয়ক এক আলোচনাচক্রে গোমূত্রের সম্ভাব্য ভেষজ গুণাবলি নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন কামকোটি। সেই বিষয়টিকেই লোকসভার বিতর্কে প্রিয়ঙ্কার তরফে হাতিয়ার করা হয় বলে পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে।

খোলা চিঠিতে শিক্ষাবিদেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, একজন আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত বিজ্ঞানীর কাজকে এভাবে ব্যঙ্গ করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিজ্ঞানমনস্কতা এবং বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের মন্তব্য অনুচিত বলে তাঁরা মনে করছেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু জাতীয় স্তরের সংসদীয় বিতর্কে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ পাবলিক ডিসকোর্স বা সার্বিক আলোচনার গুণমানকে নামিয়ে দেয়।

চিঠিতে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তিনি যেন আইআইটি পরিচালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দেশের প্রযুক্তিক্ষেত্রে তাঁর অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করেন। ভারতের নিজস্ব মাইক্রোপ্রসেসর প্রজেক্ট ‘শক্তি’ (SHAKTI)-র নেতৃত্ব দিয়েছেন ভি কামকোটি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত নানা জার্নালে তাঁর ১৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাইবার সুরক্ষা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে লেবেল বা তকমা না দিয়ে, তাঁর যোগ্যতা ও গবেষণাকে সম্মান জানানোই বাঞ্ছনীয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিটিআই সোর্স অনুসারে, এই খোলা চিঠিটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, ভারতের উচ্চশিক্ষার চালিকাশক্তি যাঁরা, তাঁদের এভাবে চিহ্নিত করা হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ প্রজন্ম ভুল বার্তা পাবে। কংগ্রেস বা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পক্ষ থেকে অবশ্য এই চিঠির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply