চণ্ডীগড়, ৩০ জুলাই: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জড়িয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবকের দ্বিতীয় জামিনের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে চণ্ডীগড়ের এক স্থানীয় আদালত। আইনি সংবাদভিত্তিক পোর্টাল বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হায়দরাবাদের বাসিন্দা হাসান মহিউদ্দিন সিদ্দিকী নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিন মঞ্জুর করতে অস্বীকার করেছেন চণ্ডীগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনালী সিং।
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চণ্ডীগড় পুলিশ হাসান মহিউদ্দিন সিদ্দিকীকে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এক ব্যক্তির মাথা মালিশের (হেড মাসাজ) একটি সাধারণ ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছিলেন যে এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি ‘আপত্তিকর’ ভিডিও।
তিনি পোস্টে বিভ্রান্তিকরভাবে দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নাকি প্রধানমন্ত্রী মোদীর একই ধরনের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজের দাবির সত্যতা প্রমাণের ভান করে তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টুল ‘গ্রোক’ (Grok)-কে ট্যাগ করেন। চণ্ডীগড় পুলিশ এই পোস্টটিকে অত্যন্ত উসকানিমূলক এবং সম্প্রদায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তৈরি বলে চিহ্নিত করে।
গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে শুনানির সময় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনালী সিং আসামির দ্বিতীয় জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, এই মুহূর্তে অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দিলে তা সমাজে জনশৃঙ্খলা (public order) মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতে তুলে ধরেছিলেন যে:
- মামলায় পুলিশ ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করেছে।
- যেসব ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড।
তবে বিচারক উল্লেখ করেন যে, অপরাধের ধারায় সর্বোচ্চ সাজা যাই হোক না কেন, পোস্টের ধরণ ও সামাজিকভাবে তার মারাত্মক প্রভাব বিবেচনায় এনে এই মুহূর্তে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সংবেদনশীল প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। চার্জশিট পেশ করা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করেই আদালত এই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে অভিযুক্তকে আপাতত বিচার বিভাগীয় হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

