পুণে, ১ আগস্ট: মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার জুন্নার তালুকের ঐতিহাসিক পর্বতসংকট নানেঘাটে এক পর্যটক পরিবারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ঐতিহাসিক ট্র্যাকিং স্থানে ঘুরতে আসা একটি মুসলিম পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একদল পুরুষ উচ্চস্বরে রানা প্রতাপের হলদিঘাটির যুদ্ধ ও মুঘল-বিরোধী মনোভাবকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া গান ও স্লোগান গাইতে থাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরো বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে নিয়ে আসে একটি অ্যাকাউন্ট। পরবর্তীতে প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, বিখ্যাত ওয়েস্টার্ন ঘাটসের পাথুরে পর্বতসংকট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দৃশ্যটি নিজের ক্যামেরায় ধারণ করেন আর্য পাতিল এবং পরবর্তীতে সেটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। ধারণকৃত ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুর্গম ওই এলাকায় মাথার স্কার্ফ পরিহিত দুজন নারী এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একদল পুরুষ সমবেতভাবে হাততালি দিয়ে ও হাত নেড়ে ক্রমাগত গান গাইতে ও স্লোগান দিতে থাকে।
ভিডিওটি প্রকাশকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে সাধারণ পর্যটকদের ওপর এই ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি ও হেনস্তার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুরো ঘটনাটিকে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ারযোগ্য কনটেন্টে রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওটিতে পাহাড়ের পাথুরে পরিবেশের মধ্যে স্পষ্ট উত্তেজনা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে জনমত সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, একটি সার্বজনীন ঐতিহাসিক পর্যটন স্থানে সাধারণ পর্যটকদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে ইঙ্গিত করে এই ধরনের গান বা স্লোগান দেওয়া মানসিক আগ্রাসনের সামিল। ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীদের পোশাক বা পরিচিতি দেখে তাঁদের এভাবে ঘিরে ধরা একেবারেই অনভিপ্রেত।
অন্যদিকে, অপর অংশের দাবি অনুযায়ী, এটি কোনো সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ নয়, বরং প্রকাশ্য স্থানে নিজেদের দেশাত্মবোধক ভাবনা এবং ঐতিহাসিক বীরত্বের প্রকাশের একটি মাধ্যম। তাঁদের মতে, হলদিঘাটির যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রানা প্রতাপের লড়াইকে স্মরণ করে গান গাওয়াকে কোনো ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ হিসেবে না দেখে ঐতিহাসিক অনুভূতির স্বাভাবিক বিকাশ হিসেবে দেখা উচিত। ১ আগস্টের এই ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
