গবাদি পশুর অর্থনৈতিক উপযোগিতা ফুরালেই রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া সমাজের দ্বিমুখী নীতি, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

গবাদি পশুর অর্থনৈতিক উপযোগিতা ফুরালেই রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া সমাজের দ্বিমুখী নীতি, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট:গবাদি পশুর অর্থনৈতিক উপযোগিতা শেষ হওয়ার পর সেগুলিকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া এবং একই সঙ্গে সেগুলিকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করাকে সামাজিক বৈপরীত্য হিসেবে বর্ণনা করল শীর্ষ আদালত। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, গবাদি পশু থেকে লাভজনক পরিষেবা পাওয়ার পর মালিকরা যখন সেগুলিকে রাস্তায় বেওয়ারিশ হিসেবে ছেড়ে দেন, তখন তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। অথচ সমাজ একদিকে পশুর এই ভবঘুরে অবস্থাকে মেনে নেয়, অন্যদিকে সেগুলিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে তীব্র আপত্তি জানায়। এই ধরনের দ্বিমুখী মনোভাব বা বিপরীতমুখী আচরণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানির সময় এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরে। ২০০৭ সালে পাঞ্জাবে একটি বেওয়ারিশ ষাঁড়ের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। সেই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করে আদালত। এই সংক্রান্ত মামলাটি নিষ্পত্তি করতে গিয়ে শীর্ষ আদালত উল্লেখ করে যে, প্রতি বছর দেশে গবাদি পশু ও অন্যান্য পশুর কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। যা জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, যারা গবাদি পশু পালন করেন, তাদের পশুর জীবনাবসান হওয়া পর্যন্ত সঠিক যত্ন ও দায়িত্ব নিতে হবে। যদি কোনো কারণে মালিকের পক্ষে পশুর রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব না হয়, তবে সেগুলিকে আইনি উপায়ে গোশালা বা নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে হস্তান্তর করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই গবাদি পশুর অর্থনৈতিক ব্যবহার শেষ হয়ে গেলে সেগুলিকে পথচলতি মানুষের সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য ফেলে রাখা যাবে না। দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে পশুকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার এই মানসিকতা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া দরকার।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের ওই বেঞ্চ দেশের ২৪টি রাজ্যে বিদ্যমান গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আইনগুলি আরও কড়াকড়িভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে। পশুর সঠিক মালিকানা নির্ধারণ এবং নজরদারির সুবিধার্থে গবাদি পশুর শরীরে ডিজিটাল বা নির্দিষ্ট ট্যাগিং ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ ও তার ফলে সৃষ্ট দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য বিশেষ নোডাল অফিসার নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে আদালত, যারা নিয়মিত এই সংক্রান্ত পরিস্থিতির তদারকি করবেন এবং জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply