নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট:
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ফিউচারক্রাইম সামিট ২০২৬-এ একটি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার সরাসরি প্রদর্শনী ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আমেরিকান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা রিসিকেউরিটির লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনে এক নেতার ফোন নম্বর সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল তথ্য প্রজেক্টর স্ক্রিনে দেখানো হয়। এই ঘটনার পরেই নেটপাড়ায় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। ওই স্ক্রিনশটগুলোতে স্পষ্ট দেখা যায়, ভারত মণ্ডপমের মঞ্চে লাইভ প্রদর্শনী চলাকালীন মার্কিন সংস্থা রিসিকেউরিটি তার ফোন নম্বরের সাথে যুক্ত টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং গেটকন্ট্যাক্ট প্ল্যাটফর্মের তথ্য স্ক্রিনে সরাসরি প্রদর্শন করেছে। শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, স্ক্রিনে তার পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত জনতা এবং ককরোচ-এর মতো বিভিন্ন শব্দ ও ট্যাগ ফুটে ওঠে।
সম্মেলনের উক্ত অধিবেশনে ভারতীয় কেন্দ্র সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। রিসিকেউরিটির ডিজিটাল ফরেনসিক শাখার প্রধান তাদের উপস্থাপনায় মূলত ইন্টারনেটে ব্যক্তির পদচিহ্ন বা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট চিহ্নিতকরণ এবং অ্যাক্টর ম্যাপিং কীভাবে সম্পন্ন হয়, তা প্রদর্শন করছিলেন। এই কাজের জন্য সংস্থাটির প্রতিনিধি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ওএসআইএনটি বা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এআই থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন।
ফিউচারক্রাইম সামিট ২০২৬-এর মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এআই চালিত সাইবার হুমকি, ডার্ক ওয়েব নজরদারি এবং প্রেডিক্টিভ পলিসিং বা সম্ভাব্য অপরাধ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো। তবে মঞ্চে সাইবার নিরাপত্তার কৌশল বোঝাতে গিয়ে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বর ও অ্যাপ নির্ভর ব্যক্তিগত তথ্য তুলে ধরা কতটা সমীচীন, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই ঘটনাটি সাইবার নিরাপত্তা প্রদর্শনীর প্রয়োজনীয়তা এবং নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকারের মধ্যেকার সূক্ষ্ম সীমানাকে পুনরায় আলোচনার আলোয় এনে দিয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
