তেহরান, ৭ আগস্ট:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণের পর থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে অংশ নেননি মোজতবা খামেনেই। দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে তাঁর অনুপস্থিতি এবং কোনো ধরনের ভাষণ বা ভিডিও বার্তা প্রকাশ না পাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের কিছু মন্তব্য এবং প্রশাসনিক সূত্রে উঠে আসা তথ্যে এই জল্পনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ইরানের প্রশাসনিক মহল সূত্রের খবর উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ইরানওয়ার জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন হামলার ঘটনার পর থেকে পেজেশকিয়ান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যই নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেননি। ওই হামলায় মোজতবার পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন বলে জানা গিয়েছিল। বর্তমানে ইরানের শাসন ব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়গুলোতেও মোজতবা খামেনেইর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে যে সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানও সম্প্রতি ইরানের সরকারি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা বা মেলবন্ধন রাখা বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তাও প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, তাঁর বর্তমান অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় ইরান প্রশাসন এই ধরনের কোনো তথ্য বা ভিডিও সামনে আনছে না। পূর্বে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হন এবং তাঁর মুখমণ্ডলে আঘাতের কারণে কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে। যদিও ইরানের সরকারি মহল থেকে এসব খবরের তীব্র বিরোধিতা করে তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করা হয়েছিল।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইসলামি বিপ্লব রক্ষক বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা এই কঠোর মনোভাবাপন্ন ধর্মীয় নেতার বর্তমান স্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

