গোরু কেবলই একটি উপকারী প্রাণী, একে পুজো করা মানবতার অপমান: বিনায়ক দামোদর সাভারকর

গোরু কেবলই একটি উপকারী প্রাণী, একে পুজো করা মানবতার অপমান: বিনায়ক দামোদর সাভারকর

পুনে, ৬ আগস্ট:হিন্দুত্ববাদের অন্যতম প্রবক্তা বিনায়ক দামোদর সাভারকরের গোরু সংক্রান্ত যুক্তিবাদী চিন্তাধারা এবার সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনের আদালতে উঠে এল। একটি গুরুত্বপূর্ণ মানহানির মামলার শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাভারকরের প্রপৌত্র সত্যকী সাভারকর তাঁর প্রপিতামহের লেখা বইয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ আদালতের সামনে তুলে ধরেন। আইন ও আদালত বিষয়ক সংবাদমাধ্যম লাইভ ল ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনে আদালতের বিশেষ বিচারক অমল শিন্ডের এজলাসে এই সাক্ষ্যদান পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে দেওয়া শপথবদ্ধ বয়ানে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাভারকরের নিজস্ব লিখিত মতাদর্শ অনুযায়ী গোরু কোনো পূজনীয় দেবতা বা ঐশ্বরিক প্রাণী নয়, বরং ঘোড়া, গাধা বা কুকুরের মতোই এটি মানবসমাজের জন্য একটি অত্যন্ত উপকারী প্রাণী মাত্র।

বিচারাধীন ওই মানহানির মামলায় সাক্ষ্য প্রদানকালে সত্যকী সাভারকর বিস্তারিতভাবে বিচারককে জানান যে, হিন্দু ঐতিহ্য এবং প্রচলিত রীতিনীতি নিয়ে বিনায়ক দামোদর সাভারকরের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আগাগোড়া যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানসম্মত। সাভারকরের মূল বই থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, গোরুর সংরক্ষণ বা সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মানবসমাজের প্রতি তার দৈনন্দিন ব্যবহারিক বা বাস্তব উপযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। গোরুকে কোনো প্রকার ঐশ্বরিক বা দেবতুল্য মর্যাদা দেওয়ার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন তিনি। সাভারকরের লেখনীর ওপর ভিত্তি করে আদালতে এই দাবিও পেশ করা হয় যে, গোরুর মতো একটি সাধারণ প্রাণীকে পুজো করার অন্ধ প্রথা প্রকৃতপক্ষে মানবতা এবং ঈশ্বর উভয়ের জন্যই চরম অপমানজনক একটি কাজ।

পুনে আদালতের বিশেষ বিচারক অমল শিন্ডের বিচারবিভাগীয় বেঞ্চের সামনে প্রদান করা এই সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী আদর্শের বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে সাভারকরের নিজস্ব যুক্তিবাদী ও বাস্তববাদী দর্শনের দিকটি আরও একবার আইনি পরিসরে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। গোরু নিয়ে আবেগ এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের যে অতিপ্রচলিত ধারণা ভারতীয় সমাজে বিদ্যমান, সাভারকর তাঁর নিজস্ব লেখনীতে তাকে কীভাবে নিছক বৈজ্ঞানিক ও উপযোগিতাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছিলেন, সত্যকী সাভারকরের এই সাক্ষ্য তারই এক অকাট্য আইনি প্রতিচ্ছবি। সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে সাভারকরের এই বইয়ের ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি বর্তমান মানহানির মামলার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, আদালতে নথিবদ্ধ হওয়া এই বয়ান সাভারকরের ধর্মীয় ও সামাজিক চিন্তাধারার এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে আইনি কার্যধারায় সংরক্ষিত হলো।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply