নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট:প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহুপ্রতীক্ষিত লক্ষ্ণৌ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনের মাত্র ২০ দিনের মাথায় এক অভূতপূর্ব ও আশ্চর্যজনক দৃশ্যের সাক্ষী হলো দেশবাসী। অতিবৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেওয়া এবং মাটির নিচের স্তর নরম হয়ে ধস নামার পর তড়িঘড়ি শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ।তবে সবচেয়ে চোখ কপালে তোলার মতো ঘটনা ঘটেছে উন্মাও সংলগ্ন ৬৪ কিলোমিটার পপয়েন্টের কাছে। সেখানে নতুন করে করা প্যাচওয়ার্ক বা মেরামতি কাজের ওপর জমে থাকা বৃষ্টির জল এবং ভিজে থাকা অংশ দ্রুত শুকানোর জন্য সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে প্রায় ১০টি বিশাল পেডেস্টাল ফ্যান বা শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত পেডেস্টাল পাখা। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যই ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও, যেখানে হাইওয়েতে ধোঁয়াশা ও নির্মাণের ট্রাকের মাঝে বড় বড় ফ্যান চালিয়ে পিচ শুকানোর চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে কর্মীদের।
গত ১৩ জুলাই বিপুল সমারোহে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেছিলেন।কিন্তু চালুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মুষলধারে বৃষ্টিতে ধসে পড়ে নবনির্মিত রাস্তার একাংশ।এই ঘটনার পরপরই ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণের অভিযোগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বা এনএইচএআই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।ঠিকাদার সংস্থা পিএনসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ওই রুটে টোল আদায় স্থগিত রাখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।এমনকি এক্সপ্রেসওয়ের এই বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ ও মূল উৎস অনুসন্ধানের জন্য আইআইটি খড়গপুরকে যুক্ত করে তদন্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ পুরো প্রকল্পটি বর্তমানে ১৫ বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডের আওতায় রয়েছে।
এদিকে হাইওয়েতে খোলা আকাশের নিচে বৈদ্যুতিক ফ্যান চালিয়ে পিচ শুকানোর এই অদ্ভুত দৃশ্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ভিডিও পোস্ট করে যোগী সরকার ও এনএইচএআই-কে বিঁধে চরম খোঁচা দিয়েছেন।বিরোধীদের অভিযোগ, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচে তৈরি অবকাঠামোর হাল যদি চালুর এক মাসের মধ্যেই এমন হয় এবং তা মেরামতে ফ্যান ব্যবহার করতে হয়, তবে তা দুর্নীতির এক নজিরবিহীন উদাহরণ।যদিও এনএইচএআই-এর দাবি, বর্ষাকালে জল জমার কারণে এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে এবং প্যাচওয়ার্ক দ্রুত সম্পন্ন করে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতেই ঠিকাদারি সংস্থা এই প্রযুক্তির পথ বেছে নিয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

