ভোপাল, ১ আগস্ট:মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় শিক্ষকের বোতল থেকে জল খাওয়ার অপরাধে আট বছরের এক দলিত ছাত্রকে বেধড়ক মারধর এবং জাতিগত গালিগালাজ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কোল্লারস তহসিলের অন্তর্গত উকাওয়াল গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণির ওই দলিত ছাত্রটি ক্লাস চলাকালীন তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ায় তার শিক্ষক লোকেশ শর্মার জলের বোতল থেকে জল পান করে। বিষয়টি দেখতে পেয়েই তীব্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই শিক্ষক। ছাত্রটির অভিযোগ, শিক্ষক তাকে জাতিসূচক কটু কথা বলেন এবং শ্রেণিঘরের ভেতরেই লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। ঘটনার পর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি জানায়। ঘটনা শুনে ক্ষুব্ধ পরিবার অবিলম্বে পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
ঘটনার সময় শ্রেণিঘরে উপস্থিত থাকা আরও তিন সহপাঠী ওই ছাত্রের অভিযোগকে সমর্থন করে পুলিশকে জানিয়েছে যে, শিক্ষক কটু মন্তব্য করার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে শিশুটিকে প্রহার করেন। ঘটনার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কোল্লারস থানার অন্তর্গত লুকওয়াসা পুলিশ আউটপোস্টে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষক লোকেশ শর্মার বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬(এ) ও ১১৫(২) ধারা সহ এসসি/এসটি আইনের প্রযোজ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অধিকার রক্ষা আন্দোলনকারীরা। অম্বেডকরবাদী প্ল্যাটফর্ম এবং জাতিবিরোধী আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ক্লাসরুমের ভেতরে শিশুদের সঙ্গে এখনও অস্পৃশ্যদের মতো আচরণ করা প্রমাণ করে যে জাতিভেদ প্রথা আজও আমাদের সমাজে গভীরভাবে জেঁকে রয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

