কর্ণাটকের স্কুল-কলেজের ৫০ মিটারের মধ্যে জাঙ্ক ফুড বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল এফএসডিএ

কর্ণাটকের স্কুল-কলেজের ৫০ মিটারের মধ্যে জাঙ্ক ফুড বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল এফএসডিএ

বেঙ্গলুরু, ২ আগস্ট:কর্ণাটকের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা ও মানক কর্তৃপক্ষ (এফএসডিএ)। তরুণদের স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চর্বি, চিনি এবং লবণযুক্ত খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে এক বিশেষ পরামর্শিকা জারি করেছে সংস্থাটি। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও কলেজের সীমানা থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে উচ্চ চর্বি, চিনি এবং লবণ সমৃদ্ধ (এইচএফএসএস) খাবার বা তথাকথিত জাঙ্ক ফুডের বিক্রি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোমল পানীয়, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং অতিরিক্ত মিষ্টি বা নোনতা খাবার এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে।

রাজ্যব্যাপী পরিচালিত এক বিস্তৃত তল্লাশি अभियाনের পরেই প্রশাসনিক স্তরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত জুলাই মাসে রাজ্যের প্রায় ১৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন খাদ্যের দোকান, কিয়স্ক ও রেস্তোরাঁয় সারপ্রাইজ পরিদর্শন চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সেই সময়ে দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঠিক বাইরেই দেদার বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত খাবার, যা পড়ুয়াদের দৈনন্দিন খাদ্যভ্যাসে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বহু শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বা ক্লাস শেষে নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করায় তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এফএসডিএ-র কর্তারা জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্থূলতা, কম বয়সে ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য খাদ্যাভ্যাসজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণই এই ধরনের অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী এলাকাকে জাঙ্ক ফুড মুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে উৎসাহিত করতেই এই পরামর্শিকা কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসনকে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা কোনো দোকান বা বিক্রেতা যদি এই আদেশ অমান্য করে এইচএফএসএস খাদ্যপণ্য বিক্রি জারি রাখেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে দায়ী দোকানগুলির ফুড লাইসেন্স বাতিল এবং জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও আশেপাশে পুষ্টিকর খাবারের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply