ত্রিশূর, ১৬ আগস্ট:
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা পড়ুয়াদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার নিদান দিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়লেন কেরলের এক বেসরকারি স্কুলের মালিক। ত্রিশূরের মালা এলাকায় অবস্থিত ডক্টর রাজু ডেভিস ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সৈনিক স্কুলের মালিক রাজু ডেভিসের এহেন মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর অভিভাবকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি অডিও বার্তা পাঠান রাজু ডেভিস। সেখানে তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসে ঘরে বসে থাকা অত্যন্ত অন্যায় ও অসহনীয় বিষয়। তাঁর দাবি, এই ধরনের মানসিকতার মানুষদের পাকিস্তানে গিয়ে থাকা উচিত এবং তাঁদের ভারতে থাকার কোনও অধিকার নেই।
পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যে সমস্ত পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে আসেনি, তাদের ক্লাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না। অভিভাবকরা সশরীরে স্কুলে এসে কারণ ব্যাখ্যা না করা পর্যন্ত তাদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের অনুমতি মিলবে না বলেও তিনি জানান। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের অভ্যাসের কারণেই পরবর্তীকালে শিশুরা অবাধ্য ও অশ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে।
এই অডিও বার্তাটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর পক্ষ থেকে স্কুল অভিমুখে একটি প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করা হয়। এছাড়া ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্টের ত্রিশূর জেলা সভাপতি ফায়িস এএইচ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজু ডেভিসের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন রাজু ডেভিস। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি জানান, তিনি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের নাম নেননি। তিনি কোনও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেননি বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশপ্রেমের জায়গা থেকেই তিনি শত্রু দেশ হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি অবশ্য কিছুটা সুর নরম করে জানান, পড়ুয়াদের সারাদিনের জন্য নয়, কেবল একটি ক্লাসের পিরিয়ডে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং সেই সময়ে তাদের ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কিত বিশেষ পাঠ দেওয়া হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

