বীরভূম, ১৭ আগস্ট:
বীরভূমের তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল মালিককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সোমবার ভোরে তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ নামের ওই হোটেলে বিধ্বংসী আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে এবং দমবন্ধ হয়ে পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। শ্রাবণের শেষ সোমবারে মন্দিরে পুজো দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের ভিড়ে ঠাসা ছিল হোটেলটি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীর্থক্ষেত্রে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর চারটে নাগাদ পাঁচতলা হোটেল ভবনের একতলার রিসেপশনে হঠাৎই আগুন ধরে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া দ্রুত ওপরের তলাগুলোতে ও বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় আবাসিকরা অধিকাংশই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়ায় ঘুম ভাঙতেই চারদিকে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘর থেকে বেরোনোর পথ খুঁজে না পেয়ে অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী ও পুলিশ। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দমকলের ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেতর থেকে মোট ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং আগুনে ঝলসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
হোটেলটিতে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত এবং সুরক্ষাবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আবাসিকদের অভিযোগ, বিপদের সময় বাইরে বেরোনোর পেছনের একটি দরজা বন্ধ ছিল, যার ফলে বেরোতে গিয়ে অনেকে বাধার মুখে পড়েন। দুর্ঘটনার পর রামপুরহাট থানার পুলিশ হোটেলের মালিক কল্যাণ পালকে গ্রেপ্তার করেছে। শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে কি না এবং সুরক্ষায় কী কী গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

