বেঙ্গলুরু : গেরুয়া শিবির যখন নতুন করে দেশের ইতিহাস লেখার কথা বলছে এবং মুসলিম শাসকদের উগ্র ও হিন্দু বিদ্বেষী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, সেই পরিস্থিতিতে মোক্ষম প্রশ্ন তুলে দিলেন কর্ণাটকের জেলা আদালতের এক প্রাক্তন বিচারক। বাসন্ত মুলাসাভ্যালাগী নামের ওই অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারক স্পষ্ট জানান, মুঘল সহ দেশের অন্যান্য মুসলিম শাসকরা যদি সত্যিই হিন্দু বিদ্বেষী বা পরধর্ম অসহিষ্ণু হতেন, তাহলে ভারতে আজ একজনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকত না। দেশে হিন্দুদের বর্তমান যে আধিপত্য, তার কোনোটিই থাকত না কারণ মুসলিম শাসকরা তাদের রাজত্বকালে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ করেননি।
বিজয়পুরা শহরে রাষ্ট্রীয় সৌহার্দ্য বেদিকা ও অন্যান্য সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবিধানের উদ্দেশ্য কি পূরণ হয়েছে শীর্ষক একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন বিচারক এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যারা দাবি করে থাকে যে মুসলিমরা অন্যায় করেছে বা অন্যায় অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই জানা উচিত ভারতে মুসলিম শাসনের ৭০০ বছরের ইতিহাস কী বলে। মুঘল শাসনে মুসলিমরা হিন্দুদের বিরোধিতা বা অত্যাচার করলে আজ ভারতে মুসলিমদের সংখ্যাধিক্য দেখতে পাওয়া যেত। তারা শত শত বছর রাজত্ব করার পরও কীভাবে মুসলিমরা ভারতে এখনো সংখ্যালঘু হয়ে রয়েছে, এই প্রশ্নই তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেন।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, মুঘল সম্রাট আকবর কি হিন্দু ছিলেন? তিনি নিশ্চিতভাবেই ইসলাম গ্রহণ করে ছিলেন এবং মুসলিম ছিলেন। তা সত্ত্বেও আকবর তাঁর প্রাসাদ চত্বরেই একটি কৃষ্ণ মন্দির তৈরি করেছিলেন, যা মানুষ চাইলে এখনো স্বচক্ষে দেখে আসতে পারে। তাঁর মতে, মুসলিম শাসকরা সব সময়ই পরধর্মসহিষ্ণু ছিলেন এবং সব ধর্মকে সমান সম্মান করতেন। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে দেশের সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থানই ছিল তাদের মূল নীতি।
ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক প্রসঙ্গ টেনে প্রাক্তন বিচারক আরও দাবি করেন, ভগবান রাম এবং ভগবান কৃষ্ণ মূলত উপন্যাসের চরিত্র মাত্র, তারা কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নন। তাঁর মতে, সম্রাট অশোকই ছিলেন প্রকৃত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। উত্তরাখণ্ডে শিবলিঙ্গে দুধ ঢালার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত অর্থহীন একটি আবেদন যা আদালতে তোলা হয়েছে। মন্দিরগুলো আদতে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন যে মন্দির তৈরির আগে সম্রাট অশোক ৮৪,০০০ বৌদ্ধ বিহার তৈরি করেছিলেন। সংবিধানের উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট হলেও তা পূরণে ব্যর্থতা দেখা দিচ্ছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

