হরিদ্বার, ২ আগস্ট:উত্তরাখণ্ডের পবিত্র ধর্মীয় শহর হরিদ্বারে চলমান কাওয়ার যাত্রার আবহে এক চরম বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার চিত্র সামনে এসেছে। হরিদ্বারের একটি জনবহুল সড়কে এক ব্যক্তি এবং তাঁর চারচাকা গাড়ির ওপর একদল কাওয়ারিয়া বা শিবভক্ত চরম তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওচিত্রে দেখা গিয়েছে, ক্ষিপ্ত জনতা রাস্তায় এক ব্যক্তিকে ফেলে লাথি, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে খাকি পোশাক পরা একাধিক পুলিশ কর্মী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এই সহিংসতা থামাতে বা আক্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। নীরব দর্শকের মতো পুলিশের দাঁড়িয়ে থাকার এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক বেনারসিয়া তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে ঘটনার দুটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করে পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সাদা রঙের চারচাকা গাড়িকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে উত্তেজিত কাওয়ারিয়ার দল। তাদের হাতে থাকা কাঠের লাঠি ও বাঁশ দিয়ে গাড়িটির সামনের উইন্ডশিল্ড, কাচ এবং শরীর বা বডি মারাত্মকভাবে ভাঙচুর করা হচ্ছে। সেই সময় রাস্তার ওপর তীব্র যানজট ছিল এবং ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে স্পষ্ট দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দ্বিতীয় নৈশকালীন ভিডিওতে দেখা যায়, পবিত্রতার অবমাননা বা অপবিত্র করার অভিযোগ তুলে ওই গাড়ির চালক বা এক যাত্রীকে ফুটপাথে ফেলে অন্তত ডজনখানেক লোক মিলে প্রকাশ্যে পেটাচ্ছে। অতর্কিত এই হামলায় আক্রান্ত ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলাকারীরা তাঁকে ক্রমাগত আঘাত করে চলে।
মূলত শ্রাবণ মাস উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কাওয়ার যাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কোটি কোটি ভক্ত ও পুণ্যার্থী উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে গঙ্গার জল সংগ্রহ করতে সমবেত হন। এই সুবিশাল পদযাত্রার কারণে পুরো উত্তরাখণ্ড এবং সংলগ্ন পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম জোরদার করা হয়। এমনকি সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে দীর্ঘদিনের জন্য স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করা সত্ত্বেও পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে এমন প্রকাশ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের নীরব ভূমিকা প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তার বিশাল গলদকে পুনরায় স্পষ্ট করে তুলেছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা এবং নেটিজেনদের একাংশ সামাজিক মাধ্যমে উত্তরাখণ্ড পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। জনবহুল ও স্পর্শকাতর এলাকায় কীভাবে পুলিশের সামনে একদল লোক একজন সাধারণ মানুষকে এভাবে নির্মমভাবে প্রহার করতে পারে, তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা কেন সময়মতো হস্তক্ষেপ করলেন না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও অপরাধীদের চিহ্নিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তথাপি কাওয়ার যাত্রার সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইনি কঠোরতা নিয়ে নানা মহলে জোরালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.