মাথুরার শাহি ইদগাহ অপসারণের বিনিময়ে হরিয়ানায় ১০ একর জমি ও মসজিদ নির্মাণের খরচ দেওয়ার প্রস্তাব হিন্দু সংগঠনের

মাথুরার শাহি ইদগাহ অপসারণের বিনিময়ে হরিয়ানায় ১০ একর জমি ও মসজিদ নির্মাণের খরচ দেওয়ার প্রস্তাব হিন্দু সংগঠনের

মাথুরা, ৮ আগস্ট:

উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী মাথুরা শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ও শাহি ইদগাহ বিতর্ক ঘিরে আবার তৈরি হলো নতুন আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক গুঞ্জন। এই বিতর্কিত জমিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহি ইদগাহ মসজিদটি স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেলার বা অপসারণ করার বিনিময়ে পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াত অঞ্চলে বিকল্প ১০ একর জমি প্রদান এবং সেখানে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের যাবতীয় খরচ বহন করার অভিনব প্রস্তাব দিয়েছে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। মাথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মুক্তি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে মুসলিম পক্ষকে উদ্দেশ্য করে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাথুরায় অবস্থিত বিতর্কিত কাঠামোর দাবি পাকাপাকিভাবে ত্যাগ করার বিনিময়ে এই বিকল্প প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মাথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান চত্বরটি কোটি কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন একটি স্থান। ফলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা শাহি ইদগাহ মসজিদ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও সামাজিক বিবাদ চলে আসছে। সেই জটিলতা নিরসনে এবং পারস্পরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মুসলিম পক্ষের কাছে এই প্রস্তাব রাখছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, মুসলিম সমাজ যদি স্বেচ্ছায় ও শান্তিপূর্ণভাবে মাথুরার ওই স্থান ত্যাগ করে মসজিদটি সেখান থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়, তবে মেওয়াত অঞ্চলে তাদের ১০ একর জমি কিনে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, সেখানে নতুন করে একটি মসজিদ তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আর্থিক দায়ভারও উক্ত হিন্দু সংগঠনটি বহন করবে।

অনলাইন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত হিন্দু সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে সর্বসমক্ষে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, মাথুরায় ধর্মীয় বিতর্ক ও দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই এড়িয়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মেওয়াত অঞ্চলটি মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে প্রস্তাবিত জমিতে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রার্থনায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলেই মনে করছেন প্রস্তাবকেরা। মাথুরার বিতর্কিত ওই জমিতে শ্রীকৃষ্ণের মূল মন্দির চত্বর পুনর্নির্মাণ ও প্রসার করার লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বর্তমানে মাথুরা জেলা আদালত থেকে শুরু করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এবং দেশের সুপ্রিম কোর্টে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ও শাহি ইদগাহ সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। হিন্দু পক্ষ দাবি করে আসছে যে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে প্রাচীন কেশবদেব মন্দির আংশিক ভেঙে ফেলে তার ওপর শাহি ইদগাহ নির্মাণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের পক্ষ থেকে ওয়াকফ সম্পত্তি ও উপাসনালয় আইন ১৯৯১-এর উদ্ধৃতি দিয়ে সমস্ত আবেদন খারিজের দাবি জানানো হয়ে আসছে। আদালত এবং আইনি সীমানার বাইরে এসে হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে পেশ করা এই ১০ একর বিকল্প জমি ও খরচ বহনের প্রস্তাবটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, তবে মুসলিম পক্ষের তরফ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply