বাঁকুড়ার ইন্দাসে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ, বিজেপি নেতাসহ গ্রেফতার ৮

বাঁকুড়ার ইন্দাসে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ, বিজেপি নেতাসহ গ্রেফতার ৮

বাঁকুড়া, ১৬ আগস্ট:

বাঁকুড়ার ইন্দাসে ককরোচ জনতা পার্টির এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে স্থানীয় বিজেপি নেতাসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো পরিদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনার জেরেই ওই কর্মীর বাড়িতে ঢুকে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজ ইন্দাস থানা এলাকার করিসুন্ডা গ্রামের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিদর্শনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং একদল লোক হাফিজের বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নিয়ে প্রচারের জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। তিনি তা অস্বীকার করায় শুরু হয় বেপরোয়া মারধর। সেই হামলায় হাফিজের পাশাপাশি তাঁর বাবা জনাব মাফিকও মারাত্মকভাবে জখম হন।

হামলার ঘটনায় মাথায় গভীর ক্ষত নিয়ে গুরুতর আহত মাফিককে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু ঘটে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে আটজনকে আটক করে। রবিবার দুপুরে মৃতের স্ত্রী হাসিনা বেগম ইন্দাস থানায় হাজির হয়ে পাঁচজনের নামসহ মোট ১০-১৫ জন হামলাকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পরই আটক আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতরা হলেন শেখ আজাদ, শ্রীকান্ত মাঝি, প্রশান্ত রুইদাস, রোহিত মাঝি, বাবলু মাঝি, সন্তু মাঝি, টিঙ্কু কেওড়া এবং অষ্টম মাঝি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে অষ্টম মাঝি এলাকায় বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার বিশদ তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

নিহত মাফিকের মা জাহানারা বেগম রবিবার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর নাতি দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, সে কারণেই বিজেপির লোকেরা তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। তিনি অভিযুক্তদের প্রত্যেকের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, আটজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তিনি এতে সন্তুষ্ট নন, তিনি হামলাকারীদের প্রত্যেকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের দাবি, বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও অনিয়ম সামনে আনার কারণেই এই নৃশংস আক্রমণ চালানো হয়েছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই বেছে বেছে তাঁদের দলীয় কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে বলে তারা সোচ্চার হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন নিজের পথেই চলবে এবং এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply