কলকাতা, ৩ আগস্ট:
বিহারের রাজনীতিতে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে পা রাখা জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর বাঙ্কিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই নগর কেন্দ্রিক আসনে বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি নিজের নির্বাচনী অভিষেক স্মরণীয় করে রাখলেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিহারের প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণ এক বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ল।
বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বাঙ্কিপুর আসনটি খালি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির দখলে থাকা এই আসনে জয়ের ধারা বজায় রাখতে পদ্ম শিবির শেষ মুহূর্তে দলের তরুণ নেতা ৩২ বছর বয়সী নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে নামায়। অন্যদিকে নির্বাচনী রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে প্রশান্ত কিশোর এই আসনটিকে বিহারের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূলকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেন। গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল উপনির্বাচনের পর সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়।
ভোট গণনার শুরু থেকেই প্রশান্ত কিশোর লাগাতার অগ্রগামিতা বজায় রাখেন এবং গণনার রাউন্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নীরজ কুমার সিনহা এবং আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ের হাসি হাসেন জন সুরজ পার্টির প্রধান। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই আসনে বিজেপির একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটায় পাটনা জুড়ে জন সুরজ পার্টির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদযাপনের জোয়ার দেখা যায়।
বাঙ্কিপুরের এই বিশাল জয় বিহারের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তির উত্থানকে স্পষ্ট নির্দেশ করছে। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় জনতা দল এবং বিজেপি-জেডিইউ জোটের দ্বিমুখী রাজনীতিতে অভ্যস্ত রাজ্যে এই রায় একটি নতুন মোড় এনে দিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নির্বাচন কুশলী হিসেবে সফল হলেও সরাসরি রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোরের প্রভাব নিয়ে নানা মহলে যে সংশয় ছিল, বাঙ্কিপুরের ফল তা একঝটকায় মুছে দিল। সাধারণ মানুষের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মূল সুরকে সামনে রেখে করা তাঁর প্রচার ভোটারদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
এই পরাজয় আগামী দিনে রাজ্য বিজেপির কৌশলগত ভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিজেদের অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গে এভাবে পরাস্ত হওয়া শাসক জোটের জন্য চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াল। বাঙ্কিপুরের এই ঐতিহাসিক জয় নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রশান্ত কিশোর জানান, এই জয় সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের ইচ্ছার জয় এবং আগামী দিনে বিহারের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

