বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মধ্যপ্রদেশের সিরোঞ্জে স্কুল ছাত্রীদের জেন আলফার বিক্ষোভ, বিজেপি বিধায়কের কাছে সুরাহার দাবি

বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মধ্যপ্রদেশের সিরোঞ্জে স্কুল ছাত্রীদের জেন আলফার বিক্ষোভ, বিজেপি বিধায়কের কাছে সুরাহার দাবি

সিরোঞ্জ, ১২ আগস্ট:

মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার অন্তর্গত সিরোঞ্জ এলাকায় বেসরকারি বাসের ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রতিবাদে পথে নামল স্কুল পড়ুয়ারা। প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাস ভাড়া হঠাৎ করে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে স্থানীয় সরকারি স্কুলের ছাত্রীরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সাংবাদিক রণবিজয় সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে এই বিক্ষোভের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন, যা দ্রুত সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ঘটনাটি গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রাম এবং তাদের শিক্ষার পথে তৈরি হওয়া নতুন আর্থিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের একটি নতুন নির্দেশিকার পর থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাসের কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১.২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা করা হয়েছে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে এলাকার বেসরকারি বাস মালিকরা স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের ভাড়াও ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যে পথের জন্য ছাত্রীদের একমুখী ভাড়া হিসেবে ৫ থেকে ১০ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য তাদের ২০ থেকে ২৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। মূলত আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সিরোঞ্জের সরকারি স্কুলগুলোতে পড়তে আসা ছাত্রীরাই এই বাসগুলোর ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য বাস ভাড়াবাবদ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা গ্রামীণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটি বড় মাপের অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাংবাদিক রণবিজয় সিং তাঁর পোস্টে ঠিক এই দিকটির ওপরেই জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষা লাভের জন্য ছাত্রীদের যে সংগ্রাম, তার মাঝে এই ধরনের অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

ভাড়া বৃদ্ধির এই খড়্গ নেমে আসায় ছাত্রীরা আর চুপ করে বসে থাকেনি। তারা সংঘবদ্ধভাবে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে প্রবল বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের এই বিক্ষোভের মূল নিশানায় ছিলেন স্থানীয় ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ক উমাকান্ত শর্মা। প্ল্যাকার্ড হাতে এবং স্লোগান দিয়ে তারা তাদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরে। বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হতে থাকে, বিধায়ক জি, আমাদের ভাড়া কমান এবং বাচ্চাদের লুট করা বন্ধ করুন। তাদের এই জোরালো স্লোগানের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে ছাত্রসমাজের প্রত্যাশা এবং ক্ষোভের বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

স্কুল ছাত্রীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং জোরালো বিক্ষোভ স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করে। বাসস্ট্যান্ডে ছাত্রীদের বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হতে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে স্থানীয় মহকুমা শাসক বা এসডিএম ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন। এসডিএম ছাত্রীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে আগের ভাড়ায় তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রশাসনের তরফ থেকে এই আশ্বাস পাওয়ার পরেই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি কেবল একটি স্থানীয় ভাড়াবৃদ্ধির প্রতিবাদ নয়, বরং এটি বর্তমান প্রজন্মের এক নতুন সামাজিক জাগরণেরও ইঙ্গিত দেয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, খুব অল্প বয়সী এই স্কুল ছাত্রীদের অধিকার সচেতনতা এবং পথে নেমে নিজেদের দাবি আদায় করার এই মানসিকতা জেন আলফা বা নতুন প্রজন্মের সক্রিয়তাবাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে তারা যে এতটা সচেতন এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের সামনে সরাসরি নিজেদের দাবি তুলে ধরতে তারা যে মোটেও ভয় পায় না, সিরোঞ্জের এই ঘটনাই তার অন্যতম বড় প্রমাণ। সাংবাদিক রণবিজয় সিংয়ের পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি বৃহত্তর জনসমক্ষে আসার পর অনেকেই এই ছাত্রীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply