উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের মিড-ডে মিল প্রদান, বিতর্ক সোশ্যাল মিডিয়ায়

উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের মিড-ডে মিল প্রদান, বিতর্ক সোশ্যাল মিডিয়ায়

সীতাপুর, ৫ আগস্ট:উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের নিম্নমানের মিড-ডে মিল পরিবেশনের চিত্র সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন সিনিয়র সাংবাদিক পীযূষ রাই। তাঁর পোস্ট করা একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা মেঝেজোড়া ধাতব থালা পেতে দুপুরের খাবার খাচ্ছে। যেখানে অত্যন্ত পাতলা, প্রায় জলীয় একটি তরকারির সোল এবং অর্ধেকাংশ পোড়া চপাটি বা রুটি পরিবেশন করা হয়েছে। পুষ্টিকর ও সুষম আহারের বদলে এই ধরনের নগণ্য মানের খাবার শিশুদের পাতে তুলে দেওয়া নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভারতের ফ্ল্যাগশিপ সরকারি প্রকল্প ‘পিএম পোষণ’ বা মিড-ডে মিল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে উপস্থিতির হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন অন্তত একবেলা পুষ্টিকর গরম রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের গ্রাম্য ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে খাদ্যের গুণগত মান ধরে রাখা, সঠিক পুষ্টির পরিমাণ নিশ্চিত করা এবং যথাযথ বণ্টন ব্যবস্থার ঘাটতি বারবার প্রকাশ্যে আসছে। সীতাপুরের এই ঘটনাটি পুনরায় তুলে ধরল কীভাবে মাঠপর্যায়ে গুণমান নিয়ন্ত্রণের অভাব দেখা দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিক পীযূষ রাইয়ের পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি হাজার চতুর্দশ লাইক এবং শতাধিক কোট-রিটুইটের গণ্ডি পার করে ফেলে। ঘটনাটি নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। সর্বস্তরের নাগরিকেরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কঠোর জবাবদিহিতা ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে ভিয়েতনাম বা ব্রাজিলের মতো দেশগুলিতে যেভাবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্নতমানের ও সুষম স্কুল টিফিন প্রদান করা হয়, তার সঙ্গেও ভারতের এই পরিস্থিতির তুলনা টেনে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বহু বিশ্লেষক।

ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করার পর স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নজর কাড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে পুরো বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম নির্দেশিকা অমান্য করে এবং খাদ্য প্রস্তুতকারী বা বণ্টনকারীদের গাফিলতির কারণে কীভাবে এই ধরনের খাবার শিশুদের পরিবেশন করা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই জাতীয় ঘটনা শুধু সীতাপুরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় স্থায়ী স্বচ্ছতা ও নজরদারি যে অত্যন্ত জরুরি, সীতাপুরের এই সাম্প্রতিক চিত্রটি তা পুনরায় স্পষ্ট করে দিল।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply