‘ভিকটিম কার্ড খেলা বন্ধ করুন, ক্ষমা চান’: প্রধানমন্ত্রীর নতুন ভিডিও বার্তা নিয়ে চাঁচাছোলা আক্রমণ জয়রাম রমেসের

‘ভিকটিম কার্ড খেলা বন্ধ করুন, ক্ষমা চান’: প্রধানমন্ত্রীর নতুন ভিডিও বার্তা নিয়ে চাঁচাছোলা আক্রমণ জয়রাম রমেসের

নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট: দিল্লির জান্তর মন্তরে পরীক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া নতুন ভিডিও বার্তা ঘিরে এবার তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ। গত রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, “গালিগালাজ বা গালাগালি কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না” এবং বিভ্রান্ত তরুণ সমাজকে শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা ও সঠিক দিকনির্দেশ দেওয়ার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানকে তীব্র আক্রমণ করে কংগ্রেস দাবি জানিয়েছে, আত্মকেন্দ্রিকতা ও ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলা বন্ধ করে নরেন্দ্র মোদীর উচিত দেশের কোটি কোটি প্রতারিত যুবসমাজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া।

সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিওটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, নিজের শাসনকালের মূল ব্যর্থতা এবং ছাত্র সমাজকে হেনস্থা করার দায় থেকে নজর ঘোরাতে প্রধানমন্ত্রী কৌশল হিসেবে এই ধরনের আবেগঘন নাটকীয় বার্তা দিচ্ছেন।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এক দীর্ঘ বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে ধুয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “স্বঘোষিত অ-জৈবিক প্রধানমন্ত্রী ভিকটিম কার্ড খেলতে ভীষণ ভালোবাসেন।” জয়রাম রমেশের অভিযোগ, রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে দেশের সংসদ— সর্বত্র প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁর পূর্বসূরি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে অশালীন ও কটু ভাষা ব্যবহার করে থাকেন এবং অসত্য তথ্য পরিবেশন করেন। অথচ এখন তিনি নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নিজে ও তাঁর দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে অশালীন মন্তব্যকারীদের এক বিরাট বাহিনীকে মদত দেন এবং পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করেন। কিন্তু গতকাল গভীর রাতে “উচ্চমাত্রার আত্মমুগ্ধতা” থেকে তিনি দাবি করলেন যে তিনি নাকি দেশের যুবসমাজকে ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছেন! এই ‘ক্ষমা করার’ দাবিকে দেশের তরুণ সমাজের প্রতি চরম অপমান বলে অভিহিত করেছে হস্ত চিহ্ন শিবির।

কংগ্রেসের মূল বক্তব্য হলো, যেখানে এনইইটি (NEET) সহ একাধিক জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, সেখানে ক্ষমা চাওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীর নিজের।

জয়রাম রমেশ তাঁর বিবৃতিতে যে বিষয়গুলির জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন:

  • পরীক্ষা দুর্নীতি ও পুলিশি নিগ্রহ: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র চরম ব্যর্থতায় প্রশ্নফাঁসের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে দিল্লি পুলিশ যেভাবে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগ করেছে, তার জন্য দেশের যুবদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত।
  • নোটবাতিল: ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের সেই সিদ্ধান্ত, যা কোটি কোটি মানুষের রুজিরুটি কেড়ে নিয়েছিল এবং ছোট-মাঝারি শিল্পকে ধ্বংস করেছিল।
  • রাম মন্দির ট্রাস্টের দুর্নীতি: রাম মন্দির ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দিল্লি জান্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার সময় এক ২৫ বছর বয়সী তরুণীর প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রয়াত মাতাজীকে নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী ৩১ জুলাই রাতে এই ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটিতে তিনি পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সঠিক পথে চালিত করার কথা বলেছিলেন।

কিন্তু বিরোধী শিবিরের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যখন “উইপোকা দিয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে” এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তখন ইনস্টাগ্রামের ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মোদী কাউকেই বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। বিরোধীদের দাবি, পিআর এজেন্সি দিয়ে তৈরি এই জাতীয় সহানুভূতি সূচক ভিডিও বার্তা না বানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উচিত সরাসরি সংসদে দাঁড়িয়ে এই ব্যর্থতার দায় গ্রহণ করা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সুসংহত করা।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply