নতুন দিল্লি, ০৪ আগস্ট:নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড এবং সাম্প্রতিককালে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা সিজেপি ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলোকে বড় আইনি স্বস্তি প্রদান করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালতের একটি বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দিল্লি সরকার সহ অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা সাধারণ এফআইআর প্রত্যাহার করতে পারবে কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বন্ধ করতে পারবে। তবে আদালত কঠোর ভাষায় নির্দেশ দিয়েছে যে, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর, স্পর্শকাতর এবং জঘন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না। তারা কোনো অবস্থাতেই আইনগত অনুকম্পা পাবেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে যথারীতি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ জারি থাকবে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৮ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে পরিচালিত ছাত্র বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ অভিযান সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছিল। উল্লেখ্য, নিট বিতর্ক ও ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ফলে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশের পর বহু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে জানায় যে, পূর্ববর্তী নির্দেশে উল্লেখিত ‘ফৌজি রেকর্ড’ বা অপরাধমূলক পটভূমি বিষয়টি শুধুমাত্র গুরুতর অপরাধের সাথেই সম্পর্কিত। সাধারণ প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর সেই তকমা চাপিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ব্যাহত করা যাবে না।
শীর্ষ আদালতের এই স্পষ্টীকরণের পর রাজ্য সরকারগুলোর কাছে এখন আইনি পথ উন্মুক্ত হলো, যার মাধ্যমে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম মেনে উপযুক্ত ক্ষেত্রে পুলিশি ক্লোজার রিপোর্ট দাখিল করে বা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে তরুণ আন্দোলনকারীদের সাধারণ অপরাধমূলক অভিযোগ থেকে মুক্ত করতে পারবে। তবে বেঞ্চ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে আন্দোলনের অজুহাতে যারা বড় ধরনের সহিংসতা বা গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর আইনি জটিলতা কাটার পাশাপাশি আন্দোলন কেন্দ্রিক মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আইনি সুযোগ আরও স্পষ্ট হলো।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

