পাকিস্তানের মাটিতে ৩০ জনেরও বেশি লস্কর জঙ্গি খতম করল ভারতের সেনা।

পাকিস্তানের মাটিতে ৩০ জনেরও বেশি লস্কর জঙ্গি খতম করল ভারতের সেনা।

নতুন দিল্লি, ০৪ আগস্ট:পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা শীর্ষ জঙ্গিদের টার্গেট করে ধারাবাহিকভাবে চলা রহস্যময় হামলায় অন্তত ৩০ জনেরও বেশি জঙ্গি নেতা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করে নিল নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও বার্তায় লস্কর-ই-তৈবার এক শীর্ষ ক্যাডার দাবি করেছে যে, গত তিন থেকে চার বছরের মধ্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন শহর এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের সুনির্দিষ্ট হামলায় তাদের এই বিপুল সংখ্যক সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। এর আগে পাকিস্তান প্রশাসন বা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করা না হলেও, লস্কর ম্যানেজমেন্টের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে ওই লস্কর সদস্যকে চরম আতঙ্ক প্রকাশ করে বলতে শোনা যায় যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে থেকেও তারা আর সুরক্ষিত নয়। দেশের অভ্যন্তরে একের পর এক লস্কর, জৈশ-ই-মোহাম্মদ এবং অল-বদর মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রভাবশালী কমান্ডার ও কৌশলবিদদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন ওই জঙ্গি নেতা। তার দাবি, ভারতীয় এজেন্সিরা বিশেষ কৌশলে তথাকথিত ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী’ বা ‘আননোন গানমেন’ ব্যবহার করে তাদের সংগঠনকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং বেছে বেছে তাদের শীর্ষ সামরিক চালকদের নিশ্চিহ্ন করছে।

বিগত কয়েক বছরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শিয়ালকোট, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি এবং মুজাফফরাবাদের মতো সুরক্ষিত এলাকাগুলোতে পরপর বহু নামজাদা জঙ্গি কমান্ন্ডারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় যুক্ত থাকা মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীরা। প্রতি ক্ষেত্রেই বাইকে আসা কিছু অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় এবং স্থানীয় পাকিস্তানি পুলিশ তদন্তে নেমেও কখনো সেই আততায়ীদের চিহ্নিত বা গ্রেফতার করতে পারেনি। লস্করের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহত ৩০ জন ক্যাডারের মধ্যে অনেকেই ছিল কাশ্মীর উপত্যকায় অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ক্যাডার নিয়োগের মূল দায়িত্বে।

ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য পাকিস্তানভিত্তিক এই জঙ্গি সংগঠনের তোলা যাবতীয় অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান নিজের মাটিতে গড়ে তোলা সন্ত্রাসবাদী কারখানা ও জঙ্গি কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাংওয়ার কিংবা নিজেদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা ঢাকাতেই বারবার ভারতের ওপর দোষ চাপানোর অহেতুক চেষ্টা চালায়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, লস্কর ক্যাডারের এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের মাটিকে এতদিন যারা নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে মনে করত, সেই সব ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক আজ চূড়ান্ত ভীতি ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply