ম্যাঙ্গালুরু, ১০ অগাস্ট:
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা ভিএইচপি এবং বজরং দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার জোরালো দাবি তুললেন খোদ এক প্রাক্তন আরএসএস প্রচারক। যশবন্ত সহদেব শিন্দে নামের ওই প্রাক্তন আরএসএস কর্মী সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গেকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রাক্তন প্রচারকের অভিযোগ, ২০০০-এর দশকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের নেপথ্যে এই ডানপন্থী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সরাসরি হাত ছিল।
চলতি অগাস্ট মাসের শুরুতে পাঠানো এই চিঠিতে যশবন্ত শিন্দে শুধুমাত্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার দাবিই জানাননি, বরং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার এবং ভিএইচপি-র সাধারণ সম্পাদক মিলিন্দ পরাণ্ডেকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিস্তারিত তদন্তের আওতায় আনারও আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ২০০০-এর দশকে দেশজুড়ে যে একাধিক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, তার মূল চক্রী বা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সঙ্ঘ পরিবারের এই শীর্ষ নেতারাই। তাঁর এই দাবির পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
যশবন্ত শিন্দে দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের একজন পূর্ণসময়ের প্রচারক হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেছেন। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন যে, সেই সময় তাঁকে বোমা তৈরির একটি বিশেষ দলে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, সঙ্ঘের বরিষ্ঠ নেতারাই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই বোমা বিস্ফোরণগুলোর ছক কষেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আইনি তদন্তের সময় এই শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা তাঁদের কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি। বরং সংগঠনের নিচুতলার সাধারণ কর্মীদেরই পুলিশি হয়রানি ও বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সেই সময় বিভিন্ন গোপন শিবিরে কীভাবে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার শেখানো হতো। হিন্দু ডানপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যশবন্ত শিন্দের এই প্রচার অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই তিনি ধারাবাহিকভাবে ২০০০-এর দশকের বোমা বিস্ফোরণগুলোতে এই সংগঠনগুলোর প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে আসছেন। যদিও সেই সময়ের অনেকগুলো বিস্ফোরণের মামলাই পরবর্তীকালে তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর প্রমাণের অভাবে বাতিল হয়ে যায় এবং অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে যান। তা সত্ত্বেও শিন্দে তাঁর দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছেন।
কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো এই নতুন চিঠি তাঁর দীর্ঘদিনের আইনি ও সামাজিক লড়াইয়ের একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই চিঠিতে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে আরএসএস, ভিএইচপি এবং বজরং দলের মতো সংগঠনগুলোকে অবিলম্বে সন্ত্রাসী তকমা দেওয়া উচিত। শিন্দের এই চিঠির পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ তিনি সরাসরি এমন কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করেছেন, যাঁরা বর্তমান ভারতের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাবান। দ্য ওয়্যার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এই চিঠির কোনো উত্তর বা প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

