“মা-বাবা, আমি দুঃখিত”, পরের জন্মে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের কথা লিখে আত্মহত্যা NEET পড়ুয়ার

“মা-বাবা, আমি দুঃখিত”, পরের জন্মে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের কথা লিখে আত্মহত্যা NEET পড়ুয়ার

নয়াদিল্লি, ২০ অগাস্ট:

ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি চলাকালীন ফের এক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। মহারাষ্ট্রে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এক ছাত্র আত্মঘাতী হয়েছেন। চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর, কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ হওয়ার আগেই তিনি চরম পদক্ষেপ করেন। মৃত্যুর আগে মা-বাবার উদ্দেশে একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক চিরকুট রেখে গিয়েছেন ওই পড়ুয়া।

মহারাষ্ট্রের বৈজাপুর তালুক এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পড়ুয়ার নাম সূরজ সুভাষ শিন্ডে এবং তাঁর বয়স ১৯ বছর। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সূরজ অত্যন্ত মানসিক চাপে ভুগছিলেন। কেরিয়ার নিয়ে প্রবল উদ্বেগের কারণেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।

সূরজ বাড়িতেই নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাড়ির দোতলার একটি ঘরে বসে তিনি পড়াশোনা করতেন এবং সেই ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেই নোটে লেখা ছিল, মা-বাবা, আমি দুঃখিত। পরের জন্মে অবশ্যই তোমাদের স্বপ্নপূরণ করব আমি। ডাক্তার হব আমি। নিজেদের যত্ন নিও। সুখে থেকো।

মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রামে একটি ধর্মীয় উৎসব চলছিল এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেখানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। দুপুরে বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজন সূরজকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর দোতলার ঘরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে বৈজাপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আপাতত এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই চরম পদক্ষেপের পেছনে পড়াশোনার চাপ ছাড়াও অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ডাক্তারি প্রবেশিকা নিটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক ও আন্দোলনের আবহে একের পর এক পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এই তরুণ পড়ুয়ার এমন মর্মান্তিক পরিণতির পেছনে ঠিক কী পরিস্থিতি দায়ী ছিল, তা পুলিশি তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply