মহাকাশ থেকে ছায়াপথের রূপকথা: আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা মহাজাগতিক ছবি শেয়ার করলেন নাসার নভোচারী ডন পেটিট

মহাকাশ থেকে ছায়াপথের রূপকথা: আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা মহাজাগতিক ছবি শেয়ার করলেন নাসার নভোচারী ডন পেটিট

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট:আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কিউপোলা মডিউল থেকে তোলা মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের একটি অত্যন্ত চোখধাঁধানো ও নিখুঁত আলোকচিত্র প্রকাশ করেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জ্যেষ্ঠ নভোচারী ডন পেটিট। মহাকাশ থেকে তোলা এই বিস্ময়কর ছবিতে দূরবর্তী ছায়াপথের বর্ণিল আর্চের নিচে পৃথিবীর রাতের অন্ধকারের অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। বায়ুমণ্ডলের কোনো ধরনের বাধা বা আলোর দূষণ না থাকায় মহাকাশভিত্তিক অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির যে অনন্য ও অতুলনীয় সুযোগ তৈরি হয়, এই অসাধারণ ফ্রেমটি তারই এক উজ্জ্বল ও অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

ছবিটি তোলার জন্য ডন পেটিট ব্যবহার করেছেন নিকন জেড নাইন ক্যামেরা এবং টি ওয়ান পয়েন্ট এইট অ্যাপারচারের আরি জাইস ১৫ মিলিমিটার লেন্স। মহাকাশ স্টেশনটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার ফলে নক্ষত্র বা ছায়াপথ স্পষ্ট তোলা বেশ কঠিন। সেই ঘূর্ণনজনিত গতিকে নিষ্ক্রিয় করে নিখুঁতভাবে তারার গতিপথ ট্র্যাক করার জন্য তিনি একটি কাস্টম ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করেছিলেন। এর ফলে মহাকাশ স্টেশনের তীব্র কক্ষপথীয় গতি সত্ত্বেও ছায়াপথের সূক্ষ্ম আলো ও রঙগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কোনো ধরনের ধোঁয়াশা ছাড়া ক্যামেরাবন্দি করা সম্ভব হয়েছে।

প্রকাশিত এই আলোকচিত্রে দেখা যাচ্ছে, নিচের দিকে পৃথিবীর অন্ধকার রাতের বুকে ঝলমল করছে বিভিন্ন শহরের আলোর রোশনাই এবং তার ঠিক ওপরেই বায়ুমণ্ডলের নিজস্ব এক চমৎকার আলোর বলয় তৈরি হয়ে রয়েছে। তার ঠিক উপরেই মহাকাশের গহীনে বাঁকা ধনুকের মতো প্রসারিত হয়ে আছে আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের অগণিত উজ্জ্বল নক্ষত্র ও রঙিন মেঘমালার সমাহার। এই অসাধারণ ফ্রেমটি মহাজাগতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পেশাদার অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এক অনন্য আইকন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

অভিজ্ঞ নভোচারী ডন পেটিট সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সম্পন্ন করা তাঁর শেষ মিশন থেকে প্রায় ১২ লাখ র অ্যাডজাস্ট করা ছবি এবং ডাটা ফাইল অ্যাক্সেস করেছেন। বহু বছর ধরে কক্ষপথ থেকে পৃথিবী ও সুদূর মহাবিশ্বের দুর্লভ দৃশ্যগুলো নিজ ক্যামেরায় ধারণ করার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঝুলিকে এই বিশাল সংগ্রহটি আবারও নতুন করে প্রমাণিত করে। মহাকাশ বিজ্ঞান এবং আলোকচিত্রশিল্প উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর এই দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা গবেষক ও সাধারণ মানুষের কাছে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply