বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপির যোগ অস্বীকার মুখ্যমন্ত্রীর, গ্রেফতার ৩ অভিযুক্ত

বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপির যোগ অস্বীকার মুখ্যমন্ত্রীর, গ্রেফতার ৩ অভিযুক্ত

কলকাতা, ১৬ আগস্ট:

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় ককরোচ জনতা পার্টির স্বেচ্ছাসেবক শেখ আব্দুল হাফিজ এবং তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো যোগসূত্র নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এই ঘটনায় দায়ের করা এফআইআরে নাম থাকা পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস থানা এলাকার করিসুন্ডা গ্রামে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির আওতায় একটি স্থানীয় সরকারি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী আব্দুল হাফিজ। অভিযোগ ওঠে, বিদ্যালয় পরিদর্শনের পরই তাঁর ওপর এবং পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই হামলায় আব্দুল হাফিজের পিতা জনাব মাফিক মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা রাজ্য সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, এফআইআরে নাম থাকা পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্তকেও দ্রুত হেফাজতে নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তারা কেবলই অপরাধী এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।

অন্যদিকে সিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ১৩ আগস্ট বিদ্যালয়ে শৌচাগার ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর পরিস্থিতি নথিভুক্ত করতে যান হাফিজ। এক শিক্ষক স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের বিষয়টি জানানোর পর সেদিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ একদল লোক তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বিদ্যালয়ের বেহাল দশার কথা তুলে ধরার জন্য হাফিজকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। কোনোমতে প্রাণে বেঁচে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে কলকাতায় চলে যান এবং হাসপাতাল থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে সুরক্ষার আর্জি জানান।

ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে এফআইআর দায়ের করে পুলিশের যথাযথ তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি এটি কোনো স্থানীয় বিবাদের জের কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেন। বিজেপি নেত্রী তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, কেউ যদি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দল কোনো অপরাধীকে আড়াল করবে না। অন্যদিকে সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বাকি অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, বিদ্যালয় সংস্কারের আন্দোলন কোনো হুমকিতে থেমে থাকবে না।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply