চিন,১০ জুলাই ২০২৬:: চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের একটি জুতো কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মাণ্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বহুতল ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বহু শ্রমিক জীবন বাঁচাতে ছাদের ওপর আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে হাত নেড়ে উদ্ধারকারীদের কাছে বাঁচানোর আকুতি জানাতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কিছু শিউরে ওঠার মতো ভিডিও ও দৃশ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ানইন্ডিয়া’ (Oneindia)-এর এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য এবং ওয়ানইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) দুপুর ১২টা নাগাদ জিনজিয়াং শহরের চেন্দাই টাউনশিপের ‘হুইতেং শুজ’ (Huiteng Shoes) কোম্পানির কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ৫ তলা বিশিষ্ট ওই কংক্রিটের ভবনের নিচতলায় একটি ওয়ার্কশপ ও গুদামঘর ছিল, যেখান থেকে প্রথম আগুনের শিখা দেখা যায়। জুতো তৈরির জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম রাবার, আঠা, ফোম এবং প্লাস্টিকের মতো অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক ও সামগ্রী মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বিষাক্ত এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
দুর্ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে ২৩৭ জন শ্রমিক এবং ২ জন বহিরাগত পরিদর্শকসহ মোট ২৩৯ জন উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল উদ্ধারকারী দল। ৫০০-রও বেশি দমকল কর্মী এবং ৩৫টি জরুরি উদ্ধারকারী গাড়ি দীর্ঘ ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জনের hospitals চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে নিখোঁজ থাকা আরও ২৬ জন শ্রমিকের মৃতদেহ কারখানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।
অग्नিকাণ্ডের তীব্রতা দেখে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে দ্রুত এবং পূর্ণ শক্তিতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করতে এবং গাফিলতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দমকল বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কারখানার সিঁড়িতে প্রচুর পরিমাণে জুতো তৈরির কাঁচামাল ও আবর্জনা স্তূপাকার করে রাখা ছিল, যার ফলে শ্রমিকরা সময়মতো নিচে নেমে আসতে পারেননি এবং দমকল কর্মীদেরও ভেতরে ঢুকতে চরম বেগ পেতে হয়।
ইতিমধ্যেই পুলিশ ওই জুতো কারখানার মালিক এবং ব্যবস্থাপনা পর্ষদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে কোম্পানির সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের এই জিনজিয়াং শহরটিকে ‘বিশ্বের জুতো রাজধানী’ বা অন্যতম প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বলা হয়, যেখান থেকে বিশ্ববাজারের একটি বড় অংশের স্পোর্টস শু বা জুতো রপ্তানি করা হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অন্যতম বড় এবং মারাত্মক শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
