বোগোতা, ১১ অগাস্ট:
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১১১ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন। দেশটির নব্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি অ্যাবেলকার্ডো দে লা এসপ্রিয়েলা এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। গত ১০ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূকম্পনের পর থেকে ক্রমাগত অনুকম্পন বা আফটারশক জারি থাকায় উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশের স্যান হোসে দেল পালমার অঞ্চলের কাছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৩ থেকে ১০৭ কিলোমিটার মধ্যবর্তী গভীরতায় এই ভূকম্পন উৎপত্তি লাভ করে। গভীরতায় উৎপত্তি হলেও ভূকম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দেশের একটি বিশাল অঞ্চলজুড়ে প্রচণ্ড কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষ করে পেরেইরা, কালি এবং এর আশেপাশের বিস্তৃত কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রারম্ভিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের তীব্র আঘাতে অন্তত ১,৫০০টিরও বেশি বাসাবাড়ি, সরকারি ও বেসরকারি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অ্যাবেলকার্ডো দে লা এসপ্রিয়েলা অবিলম্বে সমগ্র দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জীবিত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করার জন্য যৌথভাবে বিভিন্ন জরুরি সাড়াদানকারী দলকে দ্রুত ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে ধসে পড়া বাড়িঘর ও বহুতল ভবনের ভেতর থেকে আটকে পড়াদের বের করে আনতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে ক্রমাগত আফটারশকের কারণে উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, আক্রান্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এমন শক্তিশালী কম্পনের মুখোমুখি না হওয়ায় পুরো অঞ্চল জুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

