গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা খারিজ করল মার্কিন আদালত, স্বস্তিতে আদানি গোষ্ঠী

গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা খারিজ করল মার্কিন আদালত, স্বস্তিতে আদানি গোষ্ঠী

নিউ ইয়র্ক, ১১ অগাস্ট:

ভারতীয় ধনকুবের তথা আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। এর ফলে গত প্রায় দুই বছর ধরে চলা বহুল চর্চিত জালিয়াতি এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার অবসান ঘটল। সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলে, নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ নিকোলাস গারোফিস সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন আদালতের এই নির্দেশের ফলে গৌতম আদানি, তাঁর ভাইপো সাগর আদানি এবং আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে ওঠা সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, ওয়্যার জালিয়াতি এবং অন্যান্য আর্থিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে গেল। আইনি পরিভাষায় একে ডিসমিসাল উইথ প্রেজুডিস বলা হয়, যার অর্থ ভবিষ্যতে এই একই অভিযোগে আর কোনো মামলা নতুন করে দায়ের করা যাবে না। বিচারক নিকোলাস গারোফিস অবশ্য এই মামলা প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করেছিলেন।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছিলেন যে, ভারতের সরকারি আধিকারিকদের ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ দেওয়ার একটি বেআইনি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে গৌতম আদানি এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি ছিল, মূলত ভারতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের লাভজনক চুক্তি নিশ্চিত করতেই এই বিপুল অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল যে ওই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে আগামী দুই দশকে কর প্রদানের পর প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মুনাফা অর্জিত হবে। এর পাশাপাশি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বন্ড এবং ঋণের মাধ্যমে বাজার থেকে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূলধন সংগ্রহ করার অভিযোগও আনা হয়েছিল আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছিল আদানি গোষ্ঠী।

মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, এই মামলার মূল বিষয়বস্তু মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ঘটনা হওয়ায় তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটি বিভাগের বর্তমান অগ্রাধিকারের তালিকার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গৌতম আদানির এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন বিচারক। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক ট্রেন্ট ম্যাককটার এবং গৌতম আদানি স্বয়ং হলফনামা দিয়ে আদালতকে নিশ্চিত করেছেন যে, মামলা খারিজের জন্য কোনো ধরনের আর্থিক চুক্তি বা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

মামলা খারিজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আদালতের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন গৌতম আদানি। বিচারব্যবস্থার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ব্যক্ত করে তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে সত্য, ন্যায্যতা এবং আইনের শাসনের প্রতি তাঁদের অবিচল আস্থা ছিল। যাঁরা তাঁদের উপর বিশ্বাস হারাননি, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশের উন্নয়নে নিরলস কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এর আগে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়ের করা একটি পৃথক দেওয়ানি মামলায় নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার না করেই ৬০ লক্ষ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছিলেন গৌতম আদানি এবং সাগর আদানিকে ১ কোটি ২০ লক্ষ ডলার জরিমানা দিতে বলা হয়েছিল। আদালতের এই নির্দেশের পর আদানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলোর শেয়ার মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply