নতুন দিল্লি, ০৪ আগস্ট:পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক মানচিত্রকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে স্বাধীনতা ঘোষণার পর এবার ১১ আগস্টকে নিজেদের জাতীয় স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল ‘রিপাবলিক অফ বলুচিস্তান’। বছরের পর বছর ধরে চলা বৈষম্য, সেনা অভিযান এবং শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের লড়াইকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বলুচ আন্দোলনের নেতারা বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কূটনৈতিক স্বীকৃতির আবেদন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে নিজেদের ভূখণ্ডের সিংহভাগ অংশ থেকে পাকিস্তানি সেনাদের হটিয়ে তারা একটি সার্বভৌম শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেই ঐতিহাসিক অর্জনের বার্তা সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটিতে স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রিপাবলিক অফ বলুচিস্তানের পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে সারা বিশ্বের বলুচ জনগোষ্ঠীর প্রতি আগামী ১১ আগস্ট জাতীয় ঐক্যের সাথে স্বাধীনতা দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক দিনটির তাৎপর্য আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সমস্ত আবাসিক গৃহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ক্ষেত্র এবং প্রকাশ্য স্থানে স্বাধীন বলুচিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে বলুচিস্তানের ভৌগোলিক সীমারেখার অন্তত ৮৫ শতাংশ এলাকা তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের তৈরি বিভাজনমূলক নীতি, কাশ্মীর ইস্যু, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক আগ্রাসী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বলুচ নেতৃত্ব দাবি করেন যে, বিশ্বের কোটি কোটি বলুচ নাগরিক আজ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে বলুচ মুক্তিকামী নেতারা উল্লেখ করেন যে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানকালে ১৫ আগস্টের আগেই ১১ আগস্ট বলুচিস্তানের স্বাধীন ও পৃথক সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে এক গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্ম হলেও পরবর্তীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বেআইনিভাবে বলুচিস্তান দখল করে এবং অঞ্চলটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে বলুচিস্তানের বিশাল খনিজ সম্পদ, রদ্রিগেস সোনা ও তামার খনি, ১৫০টিরও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র এবং ১২০০টির বেশি কয়লা খনির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বলুচ সামরিক ও বেসামরিক পরিকাঠামো এখন যেকোনো দখলদার বাহিনীর আগ্রাসনের জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
ইতোমধ্যেই বলুচিস্তানের এই অভাবনীয় স্বাধীনতা ঘোষণা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সমীকরণে এক ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি-র আওতাধীন একাধিক কৌশলগত প্রকল্প ও গোয়াদর বন্দরের নিরাপত্তার ওপর এটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তা এনে দিয়েছে। বলুচিস্তানের নেতারা প্রতিবেশী এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে এই ভূখণ্ড ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেবেন না। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘকে সীমান্ত এলাকার দীর্ঘদিনের গুম, সামরিক নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বলুচিস্তানকে সার্বিক সমর্থন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

