নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট:
ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ওশাদব্যাংকের দায়ের করা একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনি বিরোধে ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিজেদের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারী হিসেবে মনোনীত করেছে রাশিয়া। আইনি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর একটি প্রতিবেদনে এই বিশেষ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় সামরিক অভিযানের পর ডনেটস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিজিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ব্যাংকের হারানো বিপুল সম্পদ ও কার্যক্রমে ক্ষতির সুরাহা এবং কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে এই আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ১৯৯৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির অধীনে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওশাদব্যাংক। ইউক্রেনীয় এই ব্যাংকটির দাবি, রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর ওই চারটি অঞ্চলে অবস্থিত তাদের সমস্ত সম্পত্তি, ব্যাংকিং পরিকাঠামো এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে দখল করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটিকে শত শত মিলিয়ন ডলারের চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। দখলকৃত এলাকাগুলোতে থাকা তাদের সমস্ত ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ও সম্পদ হাতছাড়া হওয়ায় সংস্থাটি মারাত্মক ব্যবসায়িক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তিন সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল বা আইনি সালিশি আদালত গঠন করা হয়েছে। এই তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি ডক্টর ধনঞ্জয় ওয়াই চন্দ্রচূড়। অন্যদিকে, ওশাদব্যাংকের পক্ষে তাদের প্রতিনিধি ও সালিশকারী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন গ্রিক মধ্যস্থতাকারী স্থাভরোস ব্রেকউলাকিস।
ট্রাইব্যুনালের এই গঠন প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের যৌথ সম্মতিতে প্রিসাইডিং আরবিট্রেটর বা ট্রাইব্যুনাল প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোস্টারিকার আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ডিয়ালা জিমেনেজকে। রাশিয়া এবং ওশাদব্যাংক উভয় পক্ষের যৌথ সিদ্ধান্তেই জিমেনেজকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে এই তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনানি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।
১৯৯৮ সালের দ্বিপাক্ষিক সামরিক ও বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপিত এই মামলাটি আন্তর্জাতিক আইনি অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। রাশিয়ার অভিযানের মুখে হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধারে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের এই লড়াই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আইনের প্রয়োগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একইসঙ্গে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নির্বাচন করার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনি ক্ষেত্রে এবং শীর্ষ স্তরের সালিশি প্রক্রিয়ায় বিচারক চন্দ্রচূড়ের দীর্ঘ বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে চিহ্নিত করে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

