বদায়ুঁ, ১২ আগস্ট:
উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ জেলায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মোরাদাবাদ-ফাররুখাবাদ হাইওয়ের মিয়াউনের কাছে একটি গরুকে ধাক্কা মারার অভিযোগে এক সরকারি চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করেছে উত্তেজিত জনতা। রবিবার, ১১ অগস্ট ঘটা এই ঘটনায় চিকিৎসকের গাড়িটিও ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করতে হয়। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম রাহুল সিদ্ধার্থ। তিনি ওই এলাকার একজন সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর কালো রঙের স্করপিও গাড়িটি মোরাদাবাদ-ফাররুখাবাদ হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময়ই এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই রাস্তার ধারে থাকা স্থানীয় মানুষজন চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গাড়ির ধাক্কায় গরুটি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল, যা দেখে উপস্থিত মানুষের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপরই উত্তেজিত জনতা চিকিৎসকের কালো রঙের স্করপিও গাড়িটি ঘিরে ধরে। শুরু হয় প্রচণ্ড ভাঙচুর ও বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ জনতা চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তাঁকে মারধর করে তাঁর পরনের জামাকাপড় ছিঁড়ে দেয়। এই ঘটনার যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গেছে বিশাল এক জনতা গাড়িটিকে ঘিরে ধরে প্রবল আক্রোশে ঝাঁকাচ্ছে। মানুষের ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে গাড়িটি কার্যত নড়ার জায়গা পায়নি। উন্মত্ত জনতা তাদের হাত, বাঁশের লাঠি এবং হাতের কাছে পাওয়া বিভিন্ন বস্তু দিয়ে গাড়ির ওপর উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। এই ভয়াবহ ও লাগাতার হামলায় স্করপিও গাড়িটির সব কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং গাড়ির বডিতেও বড়সড় গর্ত তৈরি হয়।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে চিকিৎসক কার্যত গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে চিকিৎসকের প্রাণ বাঁচাতে পুলিশকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে কোনোক্রমে ওই সরকারি চিকিৎসককে উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয় সূত্র ও সংবাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাইওয়ের ওপর এই বিশাল বিক্ষোভ ও জমায়েতের জেরে সাময়িকভাবে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
চিকিৎসক রাহুল সিদ্ধার্থকে উদ্ধার করার পর পুলিশ তাঁর গাড়ি তল্লাশি করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ক্ষতিগ্রস্ত স্করপিও গাড়ির ভেতর থেকে মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ির ভেতর মদের বোতল মেলায় পুলিশ ওই চিকিৎসকের শারীরিক ও মেডিকেল পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যদিকে, প্রকাশ্য রাস্তায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং এলাকায় শান্তিভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ চারজন স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
যে গরুটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছিল, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ও প্রশাসনের উদ্যোগে সেটির দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তবে আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসা চলাকালীনই সেটির মৃত্যু ঘটে। জানা গেছে, মৃত গরুটির কোনো ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেম করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পোস্টমর্টেম ছাড়াই গরুটিকে মাটি চাপা দিয়ে সমাহিত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মোরাদাবাদ-ফাররুখাবাদ হাইওয়ে ও সংলগ্ন মিয়াউন এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ওই এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে, যাতে নতুন করে কোনো আইনশৃঙ্খলা অবনতির মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
