২১৫ জন কর্মীর এক মাসের বেতন দিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের খরচ হয় ৫১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা আজ সুপ্রিম কোর্টে জানাল আইনজীবী কপিল সিব্বল

২১৫ জন কর্মীর এক মাসের বেতন দিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের খরচ হয় ৫১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা আজ  সুপ্রিম কোর্টে জানাল আইনজীবী কপিল সিব্বল

নয়াদিল্লি, ১১ অগাস্ট:

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা সংক্রান্ত মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। শুনানিপর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং দৈনন্দিন রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে যে বিপুল আর্থিক খরচ হয়, তার একটি বিস্তারিত খতিয়ান বিচারপতির সামনে তুলে ধরেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো অবরুদ্ধ থাকার কারণে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের দৈনন্দিন কাজ চালাতে গিয়ে কী ধরনের ব্যবহারিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা বোঝাতেই এই খরচের হিসাব আদালতে পেশ করা হয়েছে।

আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিব্বল স্পষ্ট জানান যে, তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়মিত বহুমুখী সাংগঠনিক খরচ বহন করতে হয়। তিনি খরচের সুনির্দিষ্ট হিসাব উল্লেখ করে জানান, শুধুমাত্র দলের ২১৫ জন কর্মীর এক মাসের বেতন দিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের খরচ হয় ৫১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দলের বিভিন্ন দপ্তরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভাড়ার বিষয়টিও তিনি আদালতের নজরে আনেন। বর্ষীয়ান এই আইনজীবী জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ১৭টি দলীয় অফিসের জন্য প্রতি মাসে শুধুমাত্র ভাড়া বাবদই এক কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের পরিকাঠামো বজায় রাখার জন্য এই বিপুল পরিমাণ অর্থের নিরবচ্ছিন্ন জোগান অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে তিনি যুক্তি দিয়েছেন।

দলীয় কর্মী এবং অফিসের ভাড়ার হিসাব ছাড়াও অন্যান্য আরও বেশ কিছু আনুষঙ্গিক খরচের কথা আদালতে উল্লেখ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী। তিনি বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চকে জানান যে, দলের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা বিভিন্ন এজেন্সির কর্মী এবং নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদেরও নিয়মিত বেতন প্রদান করতে হয়। একটি সক্রিয় রাজনৈতিক দলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই খরচগুলো অপরিহার্য। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ থাকার কারণে দলের এই সমস্ত অতি প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে যে চরম আইনি ও আর্থিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে, সওয়ালের সময় মূলত সেই দিকটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেন কপিল সিব্বল।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র পক্ষ থেকে আদালতে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি যুক্তি পেশ করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক সঙ্কটের দাবি খারিজ করে দিয়ে ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, দলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করা হয়নি। যে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আরও অন্যান্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালু রয়েছে। দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য তারা অনায়াসেই সেই অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থ ব্যবহার করতে পারে বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ইডি বোঝাতে চেয়েছে যে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পদক্ষেপের কারণে দলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজ কোনোভাবেই আটকে নেই।

শুনানিপর্বে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আইনজীবী এস ভি রাজু আদালতে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দাবি করেন। তিনি বিচারপতির সামনে জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে। ইডির আইনজীবীর নির্দিষ্ট দাবি অনুযায়ী, ওই দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ১২০ কোটি টাকা রয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকার কারণে দলের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার যে দাবি কপিল সিব্বল করছেন, তা মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সুপ্রিম কোর্টের এই শুনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীর এমন পরস্পরবিরোধী সওয়াল জবাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি এবং আইনি মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply