নয়াদিল্লি, ১১ অগাস্ট:
দেশের অন্যতম সফল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডক্টর মনমোহন সিং। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল এবং তাঁর ব্যক্তিগত সততা আজ দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর লেখা একটি বিশেষ নিবন্ধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে এই ভাষাতেই ডক্টর মনমোহন সিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী ইউপিএ আমলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল, তাঁর নেওয়া যুগান্তকারী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং দেশের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের কথা অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। সেই নিবন্ধটিকে উদ্ধৃত করে রাহুল গান্ধী দেশবাসীর সামনে মনমোহন সিংয়ের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছেন এবং বিরোধীদের যাবতীয় অপপ্রচারের জবাব দিয়েছেন।
সোনিয়া গান্ধীর লেখা ওই নিবন্ধে ডক্টর মনমোহন সিংকে একজন শান্ত স্বভাবের কিন্তু অত্যন্ত দূরদর্শী এবং প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন যে মনমোহন সিং এমন একজন রাষ্ট্রনেতা ছিলেন যিনি সর্বদা নীরবে নিজের কাজ করে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক আক্রমণ এবং বিরোধীদের ধারাবাহিক ভিত্তিহীন প্রচার সত্ত্বেও তিনি নিজের নীতি, সততা এবং আদর্শ থেকে কখনো একচুলও বিচ্যুত হননি। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বহুল চর্চিত কয়লা ব্লক বণ্টন কেলেঙ্কারি মামলায় মনমোহন সিংকে সম্পূর্ণ ক্লিন চিট দিয়েছে এবং তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে আইনিভাবে মুক্ত করেছে। শীর্ষ আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ঠিক পরেই সোনিয়া গান্ধী এই নিবন্ধটি লিখেছেন। সেখানে তিনি মনমোহন সিংয়ের নিষ্কলুষ ভাবমূর্তি এবং তাঁর ব্যক্তিগত সততার চূড়ান্ত জয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে তুলে ধরেছেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে মনমোহন সিংয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের দশ বছরের মেয়াদকে ভারতের সার্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত নির্ণায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোনিয়া গান্ধী তাঁর লেখায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, মনমোহন সিংয়ের সুযোগ্য নেতৃত্বেই ভারত এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাক্ষী থেকেছিল, যা দেশের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক মানুষদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে তাঁর সরকার মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন বা মনরেগা-এর মতো যুগান্তকারী সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প দেশে প্রথম চালু করেছিল। পাশাপাশি, প্রশাসনের কাজে স্বচ্ছতা ও সরকারি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তথ্য জানার অধিকার বা আরটিআই আইন প্রণয়নের একক কৃতিত্বও তাঁর সরকারের। এই ধরনের একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ভারতের গ্রামীণ এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল বলে ওই নিবন্ধে জোরালো দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বিদেশনীতির ক্ষেত্রেও মনমোহন সিংয়ের সাহসিকতা এবং দূরদর্শিতার কথা নিবন্ধটিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তির মতো অত্যন্ত জটিল এবং বিতর্কিত একটি পদক্ষেপে তিনি যে রাজনৈতিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা ভারতীয় কূটনীতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। সোনিয়া গান্ধী তাঁর নিবন্ধে পরবর্তী সরকারের রাজনৈতিক আক্রমণ এবং চটকদার প্রচারের সঙ্গে মনমোহন সিংয়ের শান্ত অথচ দৃঢ় শাসনব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন। তিনি দেশবাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো রকম রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর বা আত্মপ্রচার না করেও শুধুমাত্র নিজের কাজের মাধ্যমে কীভাবে দেশের সেবা করা যায়, মনমোহন সিং তার এক জ্বলন্ত এবং শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এই পুরো নিবন্ধটি শেয়ার করে রাহুল গান্ধী মূলত বর্তমান রাজনৈতিক আবহে মনমোহন সিংয়ের অসামান্য অবদান এবং কংগ্রেসের অতীত সুশাসনের দিকটিকেই দেশবাসীর সামনে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

