নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট:
তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের ভার্চুয়াল মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ মহুয়া মৈত্রের এই সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করে দেয়। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থকদের দ্বারা ডিম ছোড়ার যে সংঘাতময় আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বিশেষ সুরক্ষা ও ভার্চুয়াল হাজিরার অনুদান চেয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র, তাকে একজন সক্রিয় রাজনীতিকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে অনুপযুক্ত এবং অনভিপ্রেত মন্তব্য বলে আখ্যা দেয় শীর্ষ আদালত।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বিতর্কিত ভিডিও এবং একটি বিশেষ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রুজু হওয়া প্রথম তথ্য বিবরণী বা এফআইআরের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া তদন্ত প্রক্রিয়ায় সুরক্ষা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই তৃণমূল সাংসদ। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী আইনি স্বস্তি প্রদান করলেও তদন্তকারী আধিকারিকের সম্মুখে সশরীরে উপস্থিত থাকার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবেই বহাল রেখেছিল। কলকাতা হাইকোর্টের সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দর্শিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বিপীঠ তাঁর এই আর্জি গ্রহণে সম্পূর্ণ অনিচ্ছা প্রকাশ করায় এবং বেশ কিছু প্রখর পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করায় শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত থেকে নিজের আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন এই সাংসদ।
মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য পেশ করে। আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, ভারতের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যখন নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে নির্দ্বিধায় বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে একজন বর্তমান দায়িত্বশীল আইনপ্রণেতা বা সংসদ সদস্য হয়ে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনাকে কেন এত ভয় পাচ্ছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ রাজনৈতিক জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার তাগিদ দিয়ে বিচারপতির বেঞ্চ আরও জানতে চায়, কেন এই বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনি তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ভার্চুয়াল শুনানির দরকার পড়বে। শীর্ষ আদালতের এমন নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানের মুখে পড়ে মহুয়া মৈত্রের পক্ষে থাকা আইনজীবী শেষ পর্যন্ত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
পুরো আইনি প্রক্রিয়াটির সূত্রপাত মহুয়া মৈত্রের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাধিক বক্তব্য এবং পোস্টের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় রুজু হওয়া একটি এফআইআরকে কেন্দ্র করে। সেই তদন্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাওয়ার সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে হামলা, বিশৃঙ্খলা এবং বিশেষ করে ডিম ছোড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতের কাছে বিশেষ সুরক্ষার ছাতা চেয়েছিলেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজনীতির আঙিনায় সক্রিয় থাকা কোনো শীর্ষ ব্যক্তিত্বের পক্ষে এ ধরনের সামান্যতম আশঙ্কা প্রকাশ করে সশরীরে হাজিরা এড়ানোর পথ খোঁজা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ফলে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া পূর্বের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসেবে বহাল রইল, যার ভিত্তিতে তাঁকে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সমস্ত আইনি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

