নয়াদিল্লি, ১১ অগাস্ট:
গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় পুলিশের ছোঁড়া পেলেট গানে অন্তত ১০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার বা আরটিআই (RTI) আইনের অধীনে করা একটি আবেদনের জবাবে রাজধানী দিল্লির দুটি সরকারি হাসপাতাল এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সাকেত গোখলের দায়ের করা আরটিআই আবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সূত্র থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ তাদের আরটিআই জবাবে জানিয়েছে, ওই দিনের ঘটনায় অন্তত নয়জন পেলেট গানে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। অন্যদিকে, সফদরজং হাসপাতাল তাদের জবাবে জানিয়েছে যে, পেলেট গানে আহত একজন ব্যক্তিকে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তৃণমূল মুখপাত্র সাকেত গোখলে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) হাসপাতালের জবাবের ছবি শেয়ার করে জানান, আগে যেখানে ৫ জনের আহত হওয়ার খবর ছিল, সেখানে আরটিআই থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত সংখ্যাটি অন্তত তার দ্বিগুণ, অর্থাৎ ১০ জন। তিনি আরও জানান যে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) এবং রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতাল থেকে এখনও তথ্য আসা বাকি রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ শুরুতে পেলেট গান ব্যবহারের কথা অস্বীকার করলেও, পরে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে ২২ জুলাই দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি বা জেনারেল ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করা হয় যে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) ওই দিন দুটি রাউন্ড অ্যান্টি-রায়ট গান বা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল। এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী শিল্পী প্রশান্ত কুমার সিং, ২৫ বছর বয়সী শেখ ইরশাদ মনসুরি, ১৯ বছর বয়সী ছাত্র সাহিল লোচব এবং একজন সাংবাদিক রয়েছেন। এছাড়া, ৩২ বছর বয়সী নুতন নামের এক মহিলার মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি কোনো ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাকেত গোখলে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ সরকার এবং পুলিশ এখনও বিস্তারিত তথ্য গোপন করছে কেন? কেন মোদী সরকার পেলেট গানে আহতদের নিশ্চিত সংখ্যা প্রকাশ করছে না?
দুটি হাসপাতালের আরটিআই জবাব থেকে আরও জানা গিয়েছে, পদযাত্রার পর লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে মোট ৮১ জনকে আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৬ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী এবং ৩৫ জন ছিলেন পুলিশ কর্মী। অন্যদিকে, সফদরজং হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য ২৫ জন পুলিশ কর্মী এবং চারজন বিক্ষোভকারীকে সেখানে আনা হয়েছিল।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

