পুণে, ২২ আগস্ট:
নারীদের ওপর হিংসা, হেনস্থা এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশে নারী অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।শনিবার মহারাষ্ট্রের পুণেতে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ প্রচার কর্মসূচির চতুর্থ পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সুরক্ষার অভাব ও সামাজিক ভয়ের কারণে দেশের নারীরা বিপুলভাবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ জানান, প্রতি বছর দেশে প্রায় সাড়ে চার লাখ কন্যা ভ্রূণ অবস্থাতেই নষ্ট করা হয়, যা নারীদের ওপর প্রথম স্তরের হিংসা।তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ নারী তাদের জীবনে কোনো না কোনো সময় রাস্তাঘাট, বাস, রেস্তোরাঁ কিংবা স্কুল-কলেজে হেনস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।একই সঙ্গে দেশে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ শতাংশ নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন বলে তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ নারী নিজেদের উচ্চশিক্ষা অথবা চাকরি ত্যাগ করতে বাধ্য হন।এর পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তার খাতিরে গড়ে বার্ষিক প্রায় ১৭,৫০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়।সমাজ ও পুরুষতন্ত্র নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় এই নিয়ন্ত্রণকে উদ্বেগের মোড়কে আড়াল করা হয়।
তিনি বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের ৭০ কোটি নারীর স্বতন্ত্র চিন্তা, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা।নারীদের কেবল কন্যা, স্ত্রী বা মা—এই প্রচলিত পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না রেখে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।ছাত্রসমাজ ও তরুণীদের বিভিন্ন সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

